ইলন মাস্ক।
শিশুর জন্মহার কমছে ভারতে। অন্তত জনসংখ্যা ধরে রাখার জন্য এ দেশে নবজাতকের জন্মহার যা হওয়া উচিত, প্রকৃতপক্ষে তার চেয়েও নীচে নেমে গিয়েছে জন্মহার। আর দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত অংশের মধ্যেই ব্যাপারটা ঘটে গিয়েছে বহু বছর আগে। সমাজমাধ্যমে ভারতকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই কথাগুলো লিখলেন এক্স, টেসলা, স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক।
চার সঙ্গিনীর গর্ভজাত ১৪টি সন্তানের পিতা ধনকুবের মাস্ক। দম্পতিরা যাতে বেশি সংখ্যক সন্তান নেন, তা নিয়ে এক রকম আন্দোলনের ডাকই দিয়ে রেখেছেন তিনি। বস্তুত, মাস্ক মনে করেন, পৃথিবীতে উষ্ণায়নের চেয়েও বড় বিপদ হল জনসংখ্যা কমে যাওয়া। এ বার একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান-চিত্রিত প্রতিবেদন নিজের এক্স হ্যান্ডলে তুলে ধরেছেন মাস্ক। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম বার এ দেশের টোটাল ফার্টিলিটি রেট (টিএফআর) বা মোট প্রজনন হার ২.৩ থেকে কমে হয়ে গিয়েছে ১.৯। অর্থাৎ ভারতে মহিলা-পিছু শিশু জন্মাচ্ছে ১.৯টি। এমনকি ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস) রিপোর্টেও ভারতের টিএফআর ১.৯ হয়ে যাওয়ার কথাবলা হয়েছে।
সমীক্ষকদের মতে, উদ্বেগের জায়গাটি হল, সামগ্রিক জন্মহার (টিএফআর)-এর অঙ্ক প্রতিস্থাপন হার (রিপ্লেসমেন্ট লেভল)-এর অঙ্কের চেয়েও কমে যাওয়া। যে কথা বলছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ)-ও।
কী এই প্রতিস্থাপন হার? সময়ের সঙ্গে কোনও একটি এলাকার জনসংখ্যার স্থিতিশীল হার ধরে রাখতে ২.১ হারটিকে ধ্রুবক ধরেন জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞেরা। অর্থাৎ দম্পতি-পিছু কার্যত দু’টি শিশু। পরিসংখ্যান যদি দীর্ঘদিন এর নীচে থাকে, তা হলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি তো ধাক্কা খাবেই, উপরন্তু ভবিষ্যতে জনগোষ্ঠীতে নবীন ও কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমবে। বাড়বে প্রবীণের সংখ্যা, চাপ পড়বে কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির উপরে। মাস্কের শেয়ার করা প্রতিবেদনটি বলছে, দিল্লির মোট জন্মহার এখন ১.২, যা ফিনল্যান্ডের চেয়েও কম। চিনের হল ১। তার উপরে শুধু দক্ষিণ কোরিয়া— আধের সামান্য বেশি। দিল্লির পরে যথাক্রমে আসছে ফিনল্যান্ড, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ। তার পরেই নরওয়ে। এরা ১.৫ ছোঁয়নি কেউই। ছুঁচ্ছে প্রথম তেলঙ্গানা। তার পরে আমেরিকা। তারও পরে আসছে সামগ্রিক ভারতের হার। ভারতের পরে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টিএফআর ২ পার করেছে। তার পরে থাকা ভারতের দুই রাজ্য রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশই এই তালিকার পরিসংখ্যানের নিরিখে যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং প্রথম। উত্তরপ্রদেশে মহিলা-পিছু শিশুর জন্মের হার আড়াইয়ের বেশি।
সমীক্ষকদের মতে, বিহারেও শিশুর জন্মহার সন্তোষজনক ভাবে বেশি। কিন্তু তামিলনাড়ুর মতো দক্ষিণী রাজ্য, কিংবা দিল্লির মতো বড় শহরগুলিকেই যদি উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, তা হলে দেখা যাবে, এই হারই দ্রুত কমছে সেখানে। এ ক্ষেত্রেই মাস্কের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘ভারতের জন্মহার প্রতিস্থাপন হারের চেয়েও কমে গিয়েছে। সবচেয়ে শিক্ষিত অংশের মধ্যেই বহু বছর আগে প্রতিস্থাপন হারের নীচে নেমে গিয়েছে জন্মহার।’ অল্প বয়সে বিয়ে, লিঙ্গসাম্য বিঘ্নিত হওয়া, স্বাস্থ্য পরিষেবা না পাওয়া, এ সবই ১৪০ কোটির জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থাটিও।
নতুন প্রজন্মের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা না বাড়লে আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন থেকে অর্থনীতির গতি, সবেতেই ধাক্কা লাগার আশঙ্কা খুব অসঙ্গত নয়। তবে এ ক্ষেত্রে মানুষটির নাম ইলন মাস্ক। সমালোচকেরা বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়ায় প্রশাসনে এসে মুড়ি-মুড়কির মতো চাকরি-খাওয়া মাস্কইকিন্তু তাঁর নিজের সংস্থাগুলিরস্বপ্নের দৌড় অটুট রাখতে ভবিষ্যতের মেধাবী কর্মী-বাহিনী তৈরি রাখা নিয়ে ভাবেন। এমনকি মঙ্গলগ্রহে স্পেসএক্সের বসতি স্থাপনের কথাও ভাবেন। দুনিয়ায় মানুষ বেশি না হলে মঙ্গলে যাবে কে!
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে