Myanmar Junta

বাংলাদেশ সীমান্তে আরাকান আর্মির ডেরায় মায়ানমার সেনার হামলা, সঙ্গী সশস্ত্র রোহিঙ্গারা! আতঙ্ক টেকনাফে

টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার এবং কুমিরখালি এলাকায় জুন্টা সেনার গ্রাউন্ড অপারেশন শুরুর পরেই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। চলছে বিমানহানাও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৯:১৮
Share:

মায়ানমার সেনাবাহিনী। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মায়ানমার সেনা এবং বিদ্রোহী আরাকান আর্মি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার থেকেই টেকনাফ লাগোয়া মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বোমা বিস্ফোরণ এবং ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে স্থানীয় গ্রামগুলিতে। সেই সঙ্গে নজরে এসেছে বিমানহানার ঘটনাও।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভেসে আসা গোলাগুলির শব্দে সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীরা সীমান্তবর্তী নাফ নদী থেকে তীরে ফিরে আসেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় রাখাইন থেকে আবার রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার এবং কুমিরখালি এলাকায় জুন্টা সেনার গ্রাউন্ড অপারেশন শুরুর পরেই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের। কুমিরখালির অদূরে মংডু এবং বুথিডং শহরে রাখাইন আর্মির ডেরায় ধারাবাহিক বিমানহানাও চালাচ্ছে মায়ানমার বায়ুসেনা। সেনার সহযোগী হয়ে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীও!

Advertisement

প্রসঙ্গত, মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২৭১ কিলোমিটার। আর গত আড়াই বছরের যুদ্ধে তার অধিকাংশটাই দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহী জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর বৃহত্তম সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে মংডু ও বুথিডং-সহ রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা এবং চিন রাজ্যের পালেতওয়ারেরও নিয়ন্ত্রণ নেয় আরাকান আর্মি। রাখাইন প্রদেশের সঙ্গেই রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। এই পরিস্থিতিতে সেখানে বসবাসকারী কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের ‘ভবিষ্যৎ’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ঢাকা। আন্তর্জাতিক একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ (আরসা) গৃহযুদ্ধে জুন্টা ফৌজের সহযোগী হওয়ায় আরাকান আর্মির তরফে প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় এক দশক আগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিদাঙ্গায় মদত দিয়েছিল মায়ানমার সেনা। প্রাণ বাঁচাতে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ বার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী জোটের মোকাবিলায় সেই ‘ব্রাত্য’ রোহিঙ্গাদেরই সাহায্য নিচ্ছে মায়ানমারের সামরিক জুন্টা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement