—প্রতীকী চিত্র।
ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত নতুন করে ভারতের অর্থনীতির জন্য দুশ্চিন্তা বাড়াল। অর্থ মন্ত্রক সূত্র থেকে শুরু করে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে ভারতের অর্থনীতির জন্য তিনটি ক্ষেত্রে আশঙ্কা রয়েছে। এক, অশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে। দুই, শেয়ার বাজারে চাপ পড়তে পারে। তিন, রফতানিকারীরা জাহাজে পণ্য রফতানিতে সমস্যার মুখে পড়বেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দিন আগেই ইজ়রায়েল সফর সেরে ফিরেছেন। ঠিক তার পরেই ইজ়রায়েল আমেরিকার সমর্থন নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে। ফলে মোদী সরকারের বিদেশনীতি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কি ইজ়রায়েলের এই যুদ্ধে সমর্থন জানিয়ে এলেন? কংগ্রেস কটাক্ষ করেছে, নরেন্দ্র মোদী তো এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। এখন তা হলে তিনি ইজ়রায়েলে গিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামিয়ে এলেন না কেন?
ইরানে যৌথ হানা ও তার জবাবে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সেনা ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হানার পরে আজ বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ভারত গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। নয়াদিল্লির বার্তা, ‘আমরা সব পক্ষকে সংযত হতে, সংঘাতের মাত্রা না চড়াতে ও নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে আবেদন করছি। কথাবার্তা ও কূটনীতি প্রয়োজন। সব দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান দিতে হবে।’
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আজ ইরানের বিদেশমন্ত্রী এবং ইজ়রায়েলের বিদেশমন্ত্রী, দু’জনের সঙ্গেই ফোনে কথা বলেছেন। দু’পক্ষকেই ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি তুলেছেন, মোদী সরকার অনাবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারত সরকার আগেই ইরানে বসবাসকারী ভারতীয়দের দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলেছিল। আজ পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দেরও সতর্ক করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রক সূত্র বলছে, এই সংঘাত বাড়তে থাকলে অশোধিত তেলের দাম বাড়বে। ফলে দেশে তেল আমদানির খরচ বাড়বে। এখন অশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ৬৭ ডলার। আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা বাড়ার পরে ইতিমধ্যেই ২ শতাংশ দাম বেড়েছে। তা আরও বাড়লে দেশের বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়বে। মূল্যবৃদ্ধি মাথা চাড়া দেবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারে শেয়ার বেচে বেরিয়ে যেতে পারেন। চিন্তায় পড়েছেন রফতানিকারীরা।
রফতানিকারীদের সর্বভারতীয় সংগঠন ফিয়ো-র বক্তব্য, ইতিমধ্যেই পণ্য পরিবহণের বিমান বা সমুদ্রপথে সমস্যা দেখা গিয়েছে। বিমান পরিষেবা ধাক্কা খেয়েছে। লোহিত সাগর, হরমুজ় প্রণালীর মতো উপকূল সাগরের এলাকায় জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সমস্যা বাড়লে সমস্ত জাহাজকে উত্তমাশা অন্তরীপের ঘুরপথ দিয়ে যেতে হবে। ফিয়ো-র সভাপতি এস সি রলহণ বলেন, এতে ইউরোপ, আমেরিকায় পণ্য পাঠাতে ১৫-২০ দিন বেশি সময় লাগবে। পরিবহণের খরচ বেড়ে যাবে। পণ্য পরিবহণের বিমার প্রিমিয়াম বাড়বে। রলহণের মতে, ‘‘সংঘাতের স্থায়িত্ব বাড়লে জ্বালানির দাম বাড়বে। কাঁচামালের খরচ বাড়বে। ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময় মূল্যে তার প্রভাব পড়বে।’’
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী দু’দিন আগেই ইজ়রায়েল সফর করে ফিরলেন। তার পরেই ভারতের পুরনো বন্ধু ইরানের উপরে ইজ়রায়েল-আমেরিকা মিলে আক্রমণ করল। মোদীর দুই বন্ধু যা করেছেন, তার প্রেক্ষিতে মোদীর ইজ়রায়েল সফর আরও লজ্জাজনক হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘‘মোদী সরকার শুধু ঘরোয়া প্রশাসনে নয়, বিদেশনীতিতেও ব্যর্থ। প্রধানমন্ত্রীর ইজ়রায়েল সফরের সময়টাই ভুল।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে