ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। — ফাইল চিত্র।
দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানের বিক্ষোভ চলছে সে দেশেরই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে। তা দমন করতে এ বার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল তেহরান। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজ়াদ জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লার শত্রু’ হিসাবে দেখা হবে। এর জন্য ইরানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
দমন পীড়নের চেষ্টার পরেও বিক্ষোভে রাশ টানতে পারেনি ইরানের প্রশাসন। গত দেড় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে বিক্ষোভ চলছে। এবং তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরানের এই বিক্ষোভে সমর্থন রয়েছে আমেরিকারও। প্রকাশ্যেই এই সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন। এ অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল। দু’দিন আগেই বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেন মহসেনি এজেইও। তিনি সকলকে সাবধান করে বলেছেন, “যাঁরা ইরানের শত্রুদের সাহায্য করবে, তাঁদের প্রতি কোনও সহানুভূতি দেখানো হবে না।” শনিবার বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে দিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডও।
গত দেড় সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে। ইরানে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়াতে থাকে দিকে দিকে। খামেনেই-বিরোধী এই বিক্ষোভের নেপথ্যে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তেহরান। এই দুই দেশই বিক্ষোভকারীদের উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ ইরানের।
শুক্রবার নিজের বক্তৃতায় দফায় দফায় ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছেন খামেনেই। ট্রাম্পকে ‘অহঙ্কারী’ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে ইরানিদের রক্ত লেগে রয়েছে। খামেনেই দাবি করেন, ট্রাম্পের পতন হবেই! তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিক্ষোভের মুখে পিছপা হবেন না। সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে কাজ করলে কেউ নিস্তার পাবে না।’’
লাগাতার এই বিক্ষোভ এবং ইরানের প্রশাসনের দমন পীড়নের মাঝে বহু মৃত্যুর খবরও এসেছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৫। আটক হয়েছেন অন্তত ২৩০০ বিক্ষোভকারী। ২০২২ সালে নারী স্বাধীনতা নিয়ে ইরানে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল খামেনেইয়ের বাহিনী। এ বারও আন্দোলনের মোকাবিলায় সেই কৌশলই প্রয়োগ করা হচ্ছে।