Iran-US Conflict

উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলার জন্য ‘ক্ষমা’ চেয়ে দেশের অন্দরে চাপের মুখে ইরান প্রেসিডেন্ট! আশ্বাসের পরেও চলছে হামলা

নিজের বয়ান থেকে ‘ক্ষমা’ শব্দটি সরিয়ে দিয়ে ফের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘ইরানের উপর হামলা হলে, চুপ করে থাকব না। প্রত্যাঘাত হবেই।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৪
Share:

নিজের দেশেই চাপের মুখে ইরান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স।

উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা চালানোর জন্য শনিবারই ‘ক্ষমা’ চেয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়শকিয়ান। তাঁর সেই বয়ানের পর নিজের দেশের ভিতরে চাপের মুখে পড়তে হল প্রেসিডেন্টকে। নিজের বয়ান থেকে ‘ক্ষমা’ শব্দটি সরিয়ে দিয়ে ফের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘ইরানের উপর হামলা হলে, চুপ করে থাকব না। প্রত্যাঘাত হবেই।’’ ফলে প্রেসিডেন্টের ‘ক্ষমা’ চাওয়ার পরেও উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা জারি রেখেছে ইরান।

Advertisement

প্রসঙ্গত, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে নেমে উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ান উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন শনিবার। শুধু তা-ই নয়, সামরিক সংঘাতের শুরু থেকে উপসাগরীয় যে সব দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তার জন্য ‘ক্ষমা’ও চেয়ে নেন তিনি। পেজ়েশকিয়ান বলেন, ‘‘আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেই সব প্রতিবেশী দেশের কাছে ক্ষমা চাইছি, যারা ইরানের প্রত্যাঘাতের শিকার হয়েছে।’’ সেই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলিকে এটাও জানান, তারা যেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে সহযোগিতা না করে।

পেজ়েশকিয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘ইরান বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করছে, এই স্বপ্ন দেখা ভুলে যান।’’ প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ‘ক্ষমা’ চাওয়ার পরই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আত্মসমর্পণ করেছে। তার পরই ইরান প্রেসিডেন্ট পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন, আত্মসমর্পণের কোনও প্রশ্নই নেই। আঘাত এলে প্রত্যাঘাত করবে ইরান। আর তার পর থেকে ইজ়রায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলার তেজ আরও বাড়িয়েছে ইরান। শনিবারই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, এ বার আরও বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

Advertisement

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজ়শকিয়ানের ‘ক্ষমা’ চাওয়ার বিষয়টি ভাল ভাবে নিতে পারেননি তাঁর দেশেরই প্রশাসনিক কর্তা, কট্টরপন্থী এবং রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। দেশের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় শেষমেশ নিজের বয়ান থেকে ‘ক্ষমা’ শব্দটি মুছে দেন প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারিও দেন, ইরানে হামলা চালালে, কাউকে রেয়াত করা হবে না। কট্টরপন্থী ধর্মগুরু এবং সাংসদ হামিদ রসাই তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘পেজ়শকিয়ানের এই মন্তব্যকে ইরান স্বীকার করবে না।’’ প্রেসিডেন্টের নিন্দাও করেন তিনি। ইরানের অস্থায়ী প্রশাসনের আর এক নেতা মোহসিনী এজেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানে হামলা চালানোর জন্য উপসাগরীয় দেশগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই ইরানের প্রত্যাঘাত জারি থাকবে। আর এই ঘোষণার পরই আইআরজিসি বিবৃতি দিয়ে জানায়, আবু ধাবিতে আমেরিকার আল ধাফরা সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলা চালানো হয়েছে দুবাইয়ে। এ ছাড়াও বাহরিন এবং দোহাতেও হামলা জারি রেখেছে তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement