ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। —ফাইল চিত্র।
ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র এত দিন কেবল প্রতিহত করা হয়েছে। তবে আর সহ্য করা হবে না। এ বার প্রত্যাঘাত করা হবে! তেহরানকে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ক্ষমতাবান দেশ সৌদি আরব। সংবাদসংস্থা রয়টার্স চারটি সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, দু’দিন আগেই সৌদির বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। সেখানেই পাল্টা আঘাত করে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় সৌদি। ইরানকে সাবধান করে দেওয়া হয়। ঘটনাচক্রে, শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, ইরান পশ্চিম এশিয়ার আর কোনও দেশে হামলা করবে না, যদি না সেই সমস্ত দেশ থেকে ইরানের দিকে কোনও আঘাত আসে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে সৌদি। বলা হয়েছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চায় তারা। তা সম্ভব করে তোলার জন্য সম্ভাব্য সকল প্রকার সাহায্য করতে রিয়াধ প্রস্তুত। কিন্তু সৌদির উপর যদি ইরান আক্রমণ চালিয়ে যায়, তবে আর তা মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। পাল্টা আঘাত করা হবে তেহরানেও। সৌদির বিদেশমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, তারা বা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনও দেশ ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় আমেরিকাকে তাদের জমি কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। তাই প্রতিবেশীদের উপর ইরানের হামলা অযৌক্তিক।
সূত্রের দাবি, প্রিন্স ফয়সাল ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন, এর পরেও তাদের নিশানা করে ইরান থেকে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে সৌদি বাধ্য হবে আমেরিকাকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে। তারা নিজেরাও প্রত্যাঘাত করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করে। সেই হামলায় মৃত্যু হয় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। সূত্রের খবর, সে দিন থেকে টানা তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে রিয়াধ। দুই দেশের বিদেশমন্ত্রক এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবেই যুদ্ধ থামতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চাইলেও মার্কিন বাহিনীর সামনে মাথা নত না-করার বার্তা দিয়েছে ইরান। ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে পেজ়েশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের স্বপ্ন নিয়েই মরতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। এতে পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল বলে মনে করছেন কেউ কেউ।