Pakistan in West Asia Conflict

তৃতীয় পক্ষের আক্রমণ মানে দুই দেশের বিরুদ্ধেই আক্রমণ! ইরানি হামলার মধ্যে মুনিরকে ডেকে চুক্তি মনে করাল সৌদি

সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে শনিবার মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়। রিয়াধের ওই বৈঠকে ইরানের আগ্রাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৭
Share:

(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সলমন আল সৌদ (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করল সৌদি আরব। পাক সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে দেখা করলেন সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সলমন আল সৌদ। পাকিস্তানকে পুরনো চুক্তির কথাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।

Advertisement

সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফেই শনিবার মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়। একটি বিবৃতি জারি করে তারা জানিয়েছে, রিয়াধে মুনির এবং সলমনের বৈঠক হয়েছে। সেখানে সৌদির বিরুদ্ধে ইরানের আগ্রাসন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরই একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির পরিকাঠামোর মধ্যেই এই বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াধ। বলা হয়েছে, ‘‘সৌদি এবং পাকিস্তান উভয়পক্ষই আশা রাখে, ইরান যুক্তি দিয়ে বিচার করে দেখবে এবং কোনও ভুল সিদ্ধান্ত আর নেবে না।’’ সূত্রের খবর, সৌদির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুনির।

সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছিল, তৃতীয় কোনও দেশ সৌদি বা পাকিস্তানের উপর হামলা চালালে তা দুই দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসাবে গণ্য করা হবে এবং উভয় দেশই তার জবাব দেবে। এক পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্য পক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। গত বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তৎপরবর্তী চার দিনের সশস্ত্র সংঘাতের পরেই সৌদির সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল পাকিস্তান।

Advertisement

গত শনিবার থেকে ইরানে হামলা শুরু করে মার্কিন-ইজ়রায়েলি যৌথ বাহিনী। তাদের হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তার পর থেকে ইরানও প্রত্যাঘাত শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে তারা। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। সৌদিতেও বোমা পড়েছে। ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি আরবের বাহিনী। শুধু সৌদি নয়, ইরান হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরিন, ইরাকের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করেও। এই পরিস্থিতিতে তেহরানে মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার নিন্দা করে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সৌদি চুক্তি মনে করানোর পর তারা কোন অবস্থান নেবে, সে বিষয়ে কৌতূহল রয়েছে। শনিবারই অবশ্য ইরান দাবি করেছে, তাদের উপর হামলা না হলে তারা আর কোনও প্রতিবেশী দেশের উপর নতুন করে হামলা চালাবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement