মধ্যমণি মহম্মদ শামি। ছবি: পিটিআই।
আইপিএলের শুরুতে রাজস্থান রয়্যালসকে যতটা ঝকঝকে দেখাচ্ছিল, লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ততটা ম্যারম্যারে দেখাল রিয়ান পরাগের দলকে। রাজস্থানের ইনিংসকে ম্যারম্যারে করে দিলেন মহম্মদ শামি। তবু ঋষভ পন্থের দলের সামনে জয়ের জন্য ১৬০ রানের লক্ষ্য রাখল রাজস্থান।
ইনিংসের প্রথম ১৬ বলে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৩২ রান তুলে ফেলা রাজস্থান ৪ ওভারের শেষে ৩ উইকেটে ৩২। তৃতীয় ওভারের শেষ ২ বলে যশস্বী জয়সওয়াল এবং ধ্রুব জুরেলকে আউট করে ধাক্কা দেন শামি। চাপে পড়ে যাওয়া রাজস্থানকে পরের ওভারে আরও কোণঠাসা করে দেন মহসিন খান। আউট করে দেন বৈভব সূর্যবংশীকে। ওই ওভারে কোনও রানও দেননি মহসিন। যশস্বী (২২), জুরেল (০) এবং বৈভবেরা (৮) আউট হন ৮ বলের মধ্যে। রাজস্থানের ব্যাটিং শক্তির অর্ধেক শেষ!
এর পর দলের ইনিংস মেরামতে হাত লাগান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ এবং শিমরন হেটমেয়ার। চোট সারিয়ে ৩৫৩ দিন পর ময়াঙ্ক যাদবকে পেয়েও রান তোলার গতি তেমন বাড়াতে পারেননি তাঁরা। প্রথম ওভারে ১৩ রান দেওয়া প্রিন্স যাদবও ফিরে এসে ভাল বল করলেন। তাঁকে উইকেট দিলেন পরাগ (২০)। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চার-ছক্কা দেখতে মাঠে আসা ক্রিকেটপ্রেমীরা পর পর আউট দেখলেন! বোলারদের দাপট দেখতে হল। ভরসা দিতে পারলেন না হেটমেয়ারও (২২)। মহসিনের বলে তিনি আউট হওয়ার পর রবীন্দ্র জাডেজা এবং ডনোভান ফেরেরা ঝুঁকি নেননি। বল বুঝে খেলে দলের ইনিংস টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। খুচরো রান নিয়ে স্কোর বোর্ড সচল রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। ফেরেরাও (২০) ভাল কিছু করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত জাডেজার সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন শুভমন দুবে। জাডেজা ২৯ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকলেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল ২টি চার এবং ১টি ছয়। শুভম করলেন ১১ বলে ১৯। ৩টি চার মারেন তিনি। তাঁদের জন্য ৬ উইকেটে ১৫৯ রান তুলে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছোয় রাজস্থান।
শামি ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেন। বেশ ভাল বল করলেন। এর পরও বাংলার জোরে বোলার জাতীয় দলের সুযোগ না পেলে বিস্মিত হতে হবে। নজর কাড়লেন মহসিনও। ১৭ রানে ২ উইকেট তাঁর। লখনউয়ের অন্য বোলারেরাও ম্যাচের রাশ আলগা হতে দেননি। ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেন প্রিন্স যাদব। উইকেট না পেলেও কৃপণ বোলিং করলেন দিগ্বেশ রাঠীও। ২৬ রান দিলেন ৪ ওভারে। কিছুটা হতাশ করলেন শুধু চোট সারিয়ে ফেরা ময়ঙ্ক। ৫৬ রান দিয়েও উইকেট পেলেন না।