Iran Appointed Psychologists

‘মাইন্ডগেম’! ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের মনের গতি বুঝতে দুই মনোবিদকেও ইসলামাবাদ বৈঠকে নিয়ে যায় ইরান: রিপোর্ট

ইরান প্রশাসনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে দু’দেশের প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে বসার আগে তেহরান দু’জন মনোবিদকে নিয়োগ করেছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৪:৪৩
Share:

ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে প্রথান দফার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দল। নেতৃত্বে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে কি ‘মাইন্ডগেম’ চলছিল? বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর প্রতিনিধিদলের মনোভাব কেমন থাকে, তাঁর আচরণ কেমন হতে পারে, তারই একটা ‘ব্লুপ্রিন্ট’ করেছিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে তাই দেশের দুই মনোবিদের সাহায্য নিয়েছিল তেহরান। এমনই দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট-এর এক প্রতিবেদনে।

Advertisement

ইরান প্রশাসনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে দু’দেশের প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে বসার আগে তেহরান দু’জন মনোবিদকে নিয়োগ করেছিল। যদিও ওই বৈঠকে ট্রাম্প সরাসরি অংশ নেননি। কিন্তু আমেরিকার প্রতিনিধিরা কী বলতে চাইছেন, ট্রাম্পের নির্দেশই বা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে একটা ‘মাইন্ডগেম’ চলছিল। সেই ‘মাইন্ডগেম’-এ এগিয়ে থাকতেই ট্রাম্পের মনোভাব এবং আচরণ বোঝা জরুরি ছিল বলে ওই সূত্রের দাবি।

ইরান প্রশাসনের ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে ড্রপ সাইট বলেছে, ‘‘প্রতিনিধিদলের মধ্যে দেশের দু’জন শীর্ষ মনোবিদকে রাখা হয়েছিল যাতে ট্রাম্পের মতিগতি বুঝতে পারা যায়। আর সেই অনুযায়ী বৈঠকে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। ওই বৈঠকে বসার আগে এই বিষয়টির উপরে জোর দেওয়া হয়েছিল।’’ ওই সূত্রের দাবি, মনোবিদেরা যে ভাবে যে ভাবে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, সে ভাবেই কাজ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মনোবিদদের সেই পরামর্শ ইরানের আলোচনা কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আর সেই পরামর্শ কাজও করেছিল বলে দাবি ওই সূত্রের। গঠনমূলক আলোচনাও হয় ওই বৈঠকে।

Advertisement

ঘটনাচক্রে দেখা গিয়েছে, প্রথম বৈঠক শেষ মূহূর্তে ভেস্তে গেলেও আমেরিকা কিন্তু যুদ্ধবিরতির সময় বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি, ট্রাম্প ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করলেও পরের দিকে আগ্রাসী কৌশল থেকে সরে সমঝোতার রাস্তাতেই হাঁটার কৌশল নেওয়া শুরু করে ধীরে ধীরে। ইজ়রায়েল যদিও ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কৌশল নেওয়ার পক্ষেই বার বার সওয়াল করেছে। কিন্তু দেখা গিয়েছে, ট্রাম্প সেই ফাঁদে পা দেননি। বরং ইরানে সঙ্গে সমঝোতার রাস্তাতেই হেঁটেছেন। ফলস্বরূপ, রবিবারই তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। তা হলে কী এ বারের সমঝোতা চুক্তিতেও ট্রাম্পের মতিগতি বুঝতে মনোবিদদের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল? যদিও সে প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে। তবে এখন ১৯ জুনের ওই বৈঠকের উপরই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের। সিলমোহর পড়বে? না কি ফের ভেস্তে যাবে?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement