আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকা এবং ইরানের শান্তি আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য উঠে আসছে দু’দেশ থেকেই। আমেরিকা বলছে, আলোচনা চলছে। ইরান বলছে, চলছে না। এরই মধ্যে সোমবার ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল তেহরান। তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৩১ দিনে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি ইরানের। শুধু আলোচনায় বসার জন্য আমেরিকার তরফে একটি অনুরোধ পেয়েছে তারা।
ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেইয়ের সোমবার বেশি রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “গত ৩১ দিনে আমেরিকার সঙ্গে আমাদের কোনও কথাবার্তা হয়নি। শুধু আমেরিকার তরফে আলোচনায় বসার জন্য একটি অনুরোধ এসেছে। আর পাকিস্তান-সহ মধ্যস্থতাকারী কিছু দেশের মারফত একগুচ্ছ প্রস্তাব এসেছে আমাদের কাছে।” এ কথা লিখেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, আমেরিকার সঙ্গে এখনই আলোচনায় বসার কোনও অভিপ্রায় নেই ইরানের।
ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমেরিকা সামরিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরাও ইরানকে বাঁচানোর জন্য নিজেদের সাধ্যমতো সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা অতীতে দেখেছি কী হয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ে দু’বার কূটনীতির পথে হেঁটে আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি। এটা আমরা কখনওই ভুলব না।” পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে অতীতের ‘নিষ্ফলা’ আলাপ-আলোচনার কথাই এ ক্ষেত্রে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বস্তুত, ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতা চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকা-ইরান শান্তি সমঝোতা কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। ট্রাম্প বলছেন, তাঁদের ১৫ দফা প্রস্তাবের বেশির ভাগই ইরান মেনে নিয়েছে। তবে ইরান বলছে ভিন্ন কথা। শান্তি সমঝোতার জন্য ট্রাম্পদের প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ বলেই ব্যাখ্যা করছে তেহরান। বিভিন্ন মার্কিন সূত্র গত কয়েক দিন ধরেই দাবি করছে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা। ট্রাম্প অবশ্য এতদিন প্রকাশ্যে তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলে আসছিলেন, কয়েক জন ‘ভাল মানুষের’ সঙ্গে কথা হচ্ছে। এ বার সেই ‘ভাল মানুষের’ নাম প্রকাশ্যে এনেছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, গালিবাফ ঠিক কী করতে চাইছেন, তা শীঘ্রই বুঝে নিতে চাইছে আমেরিকা।