প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
যুদ্ধবিরতির মাঝেই তেহরানের রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শন করল ইরান। খোরামশাহ, কাদরের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নিয়ে রীতিমতো মহড়া হয়ে গেল। সেই মহড়ার ভিডিয়ো প্রকাশ করল তেহরান (যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমেও সেই মহড়া সম্প্রচারিত হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে কাদর, খোরামশাহ-সহ ইরানের অস্ত্রভান্ডারের ক্ষেপণাস্ত্রগুলির প্রদর্শন হচ্ছে তেহরানের রিভোলিউশন স্কোয়ারে।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, হাজার হাজার ইরানবাসী হাতে পতাকা নিয়ে এই প্রদর্শনীতে শামিল হয়েছেন। রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে মেতেছেন। প্রসঙ্গত, বুধবার নতুন করে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়েছে আমেরিকা। তার মধ্যেই ইরানে এই সমরাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শনী প্রকাশ্যে এল। অনেকে বলছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি জবাব দিতে চেয়েছে ইরান। কারণ সামরিক সংঘাত চলাকালীন ট্রাম্প বার বারই দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার ফুরিয়ে এসেছে। ওদের অস্ত্রের ভাঁড়ারে টান পড়েছে। ট্রাম্পের সেই দাবির কোনও সরাসরি জবাব দেয়নি ইরান। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা হতেই প্রকাশ্যে এল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া।
আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমেই আমেরিকাকে ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে, ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, সেগুলির কোনও ভিত্তি নেই। তাদের হাতে যথেষ্ট সমরাস্ত্র রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি সূত্র বলছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলার পরেও কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং কামিকাজ়ে ড্রোন উৎপাদন করেছে। যদিও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল বার বার দাবি করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে ধ্বংস করা হয়েছে। বায়ুসেনাকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইরান আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সেই সব দাবিকে প্রতি বারই খণ্ডন করেছে। অনেকে মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মাঝে এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করে ইরানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইল আমেরিকাকে।