(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প। আব্বাস আরাঘচি (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
অচলাবস্থা কাটিয়ে কি ফের আলোচনায় বসবে আমেরিকা এবং ইরান? দু’দেশের শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব ঘিরে যে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছিল, তা এ বার কাটতে শুরু করেছে। আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আবার। জানা যাচ্ছে, শুক্রবারই বেশি রাতের দিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছ যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তানি সূত্র মারফত এমনটাই জানাচ্ছে রয়টার্স।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ইতিমধ্যে বৃদ্ধি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ মে ওই বর্ধিত মেয়াদও শেষ হচ্ছে। তবে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও কাটেনি। হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি চলছেই। এরই মধ্যে শুক্রবার বিকেলে জানা যায়, ইরানের বিদেশমন্ত্রী ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের সরকারি আধিকারিক সূত্রে রয়টার্স জানাচ্ছে, মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ইসলামাবাদেই রয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বিবেচনা করেই ওই প্রতিনিধিদল সেখানে রয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানি সূত্রের। যদিও তেহরান বা ওয়াশিংটন থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এর আগে ইসলামাবাদেই প্রথম দফায় শান্তি বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলার পরেও কোনও চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছিল। এর পরে গত মঙ্গলবার দু’দেশের ফের আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু হরমুজ়ে মার্কিন অবরোধের বিরোধিতায় ইরান বৈঠকে বসতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বে যে মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রতিনিধিদলও আর ওয়াশিংটন থেকে রওনা দেয়নি।
ঘটনাচক্রে, শুক্রবারই লেবানন এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে হোয়াইট হাউসে আলোচনায় বসতে পারেন লেবানন এবং ইজ়রায়েলের প্রতিনিধিরা। ঠিক এমনই একটি সময়ে পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি। যদিও কী কারণে আরাঘচি পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানাচ্ছে, পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমান এবং রাশিয়াতেও যাবেন আরাঘচি। তবে পাকিস্তানের এই সফরসূচিতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের কোনও সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন প্রতিনিধিদল (ভান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল) বর্তমানে পাকিস্তানে নেই। যে দলটি রয়েছে সেটি হল নিরাপত্তাবাহিনী একটি প্রতিনিধিদল। রয়টার্স জানাচ্ছে, আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্যই নিরাপত্তাবাহিনীর ওই দলটি সেখানে রয়েছে।