Strait of Hormuz

‘শুধু দুই দেশ বাদে, কাউকে আটকানো হচ্ছে না’! হরমুজ় প্রণালী বন্ধের দাবি উড়িয়ে জানালেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী

হরমুজ় প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয় মেনে নিচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, ‘‘অনেকেই নিরাপত্তার কারণে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছে না। তবে তার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১০:৪১
Share:

দুই দেশ বাদে হরমুজ় প্রণালী খোলা সকলের জন্য, জানাল ইরান। — ফাইল চিত্র।

শুধু দুই দেশের জাহাজের জন্য বন্ধ হরমুজ় প্রণালী! এমনই জানালেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, হরমুজ় প্রণালী উন্মুক্ত রয়েছে। সব দেশের জাহাজই নিরাপদে প্রণালী পার করতে পারে। তবে শুধু আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের কোনও জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না!

Advertisement

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ‘‘প্রকৃতপক্ষে, হরমুজ় প্রণালী উন্মুক্ত। শুধু আমাদের শত্রুদের ট্যাঙ্কার এবং জাহাজের জন্য বন্ধ। অন্য দেশের জাহাজ যাতায়াতে কোনও বাধা নেই।’’ তিনি দাবি করেন, যে দেশগুলি ইরান এবং তার বন্ধুদের উপর ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে, তাদের রেয়াত করা হবে না। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকবে তাদের জন্য।

হরমুজ় প্রণালীর উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এই প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পারস্য উপসাগরের উপকূলে রয়েছে আরও ছ’টি দেশ— সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, কুয়েত, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। প্রতিটি দেশই অপরিশোধিত তেলের খনি। এই দেশগুলি থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করা হয়। রফতানির প্রধান পথ হরমুজ়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় যখন সঙ্কটে, যার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়ছে অনেক দেশের উপরই। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী জাহাজ সার দিয়ে দাঁড়িয়ে প্রণালীর চারপাশে। অভিযোগ, ইরান কার্যত হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে। ওই প্রণালী পার করার চেষ্টা হলেই হামলা চালানো হচ্ছে। হরমুজ়ে পাতা আছে মাইনও! অনেক দেশই তাই নিরাপত্তার কারণে হরমুজ় পার হতে চাইছে না।

Advertisement

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয় মেনে নিচ্ছেন আরাঘচি। তাঁর দাবি, ‘‘অনেকেই নিরাপত্তার কারণে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছে না। তবে তার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। অনেক ট্যাঙ্কার এবং জাহাজই হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করছে।’’ ইরানের বিদেশমন্ত্রী এ-ও দাবি করেন, ‘‘প্রণালী বন্ধ, এটা ঠিক নয়।’’ তার পরেই স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘‘কেবল ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার জাহাজের জন্য এই প্রণালী বন্ধ।’’ প্রশ্ন উঠছে, ইরানকে কি যুদ্ধে সাহায্য করছে রাশিয়া এবং চিন? সরাসরি উত্তর এড়িয়ে আরাঘচি বলেন, ‘‘রাশিয়া এবং চিন আমাদের কৌশলগত অংশীদার। অতীতে আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল, যা এখনও অব্যাহত। তার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা রয়েছে।’’

হরমুজ় প্রণালী নিয়ে ইরানকে বার বার সতর্ক করতে শোনা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি দাবি করেন, ইরান এ ভাবে হরমুজ় প্রণালী আটকে রাখতে পারে না। এ নিয়ে বার কয়েক হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এ-ও জানিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালীতে আটকে থাকা পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে পাহারা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে। তার জন্য তিনি মার্কিন নৌবাহিনী পাঠাবেন। শনিবার এ বিষয়ে আরও কিছুটা সুর চড়ান তিনি। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলির কাছে ট্রাম্পের আহ্বান, ‘‘যুদ্ধজাহাজ পাঠান।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট চান, ‘‘চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন এবং অন্যরা— যাদের উপর এই কৃত্রিম বাধার প্রভাব পড়েছে— তারা ওই অংশে (হরমুজ় প্রণালী) যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।’’ ট্রাম্প মনে করেন, এই পদক্ষেপের ফলে হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের ‘হুমকি’ প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement