তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইজ়রায়েল। শনিবার রাজধানী তেহরানে পর পর বেশ কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়। সে দেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর বহু জায়গায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করেছে। নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বার্তা দেওয়া হয়েছে।
টাইমস অফ ইজ়রায়েল-এর প্রতিবেদন বলছে, ইরানে এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লায়ন্স রোর’। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেই এই নাম রেখেছেন। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে যে অভিযান চালিয়েছিল ইজ়রায়েল, তখন তার নাম রাখা হয়েছিল ‘রাইজ়িং লায়ন’। এই হামলার মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে বলেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সে দেশের এক প্রশাসনিক কর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইজ়রায়েলকে সময়মতো জবাব দেওয়া হবে। আর সেটা খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে।
হামলার পরই ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাটজ় দাবি করেছেন, হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছিল তাঁদের দেশে। তাই আত্মরক্ষার্থেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সতর্কতা জারি করা হয়েছে ইজ়রায়েলের রাজধানী তেল আভিভেও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি দাবি করেছে, অন্তত তিন থেকে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে তেহরানে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে তেহরান থেকে গোপন ডেরায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স সূত্রে খবর। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন বলছে, খামেনেইয়ের দফতরের খুব কাছেই পর পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে একটা সংঘাত চলছে। বার বার তেহরানকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ইরান যদি পরমাণু প্রকল্প নিয়ে নমনীয় মনোভাব না দেখায়, তা হলে ফল ভুগতে হবে। সেই হুঁশিয়ারির মধ্যেই এ বার তেহরানে হামলা চালাল ইজ়রায়েল।
এ মাসের গোড়াতে আমেরিকা এবং ইরান দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান ঘটাতে বৈঠকে বসেছিল। সেই সময় ইজ়রায়েল দাবি করেছিল, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যে চুক্তিই হোক না কেন, পরমাণু গবেষণা এবং প্রকল্পের বিষয় নিয়ে যেন ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। ইরান তখন শর্ত দিয়েছিল, তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা তুললে তবেই পরমাণু গবেষণার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে তারা। তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে যত দূর যেতে হয় যাবে তারা। শুধু তা-ই নয়, যে কোনও হামলা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত নতুন নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সেই সংঘাত বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রায়ই দু’পক্ষ নরমে-গরমে একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে পরমাণু চুক্তি নিয়েও আলোচনা। তবে প্রথম দু’দফার বৈঠকে কোনও রফাসূত্র বার হয়নি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সঞ্চয় বন্ধ করতে হবে ইরানকে। বন্ধ করতে হবে পরমাণু প্রকল্প। ট্রাম্পের আরও দাবি, স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকেও মদত দেয় ইরান। সেই মদতও বন্ধ করতে হবে। ইরান বার বার দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে মানুষের কল্যাণেই পরমাণু প্রকল্প চালাচ্ছে তারা।
গত বছরও পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যায়। গত জুন মাসে ইরানে হামলা করে বসে ইজ়রায়েল। ১২ দিন ধরে চলে সংঘাত। ইরানের পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে আমেরিকাও।