বিমান পরিষেবা চালু হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। —ফাইল চিত্র।
অচলাবস্থা এখনও রয়েছে। উত্তেজনাও রয়েছে। এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে চালু হল পশ্চিম এশিয়ার বিমান পরিষেবা। প্রায় তিন দিন বন্ধ থাকার পরে ফের খুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই এবং আবুধাবির বিমানবন্দর। তবে অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে। সেই অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই স্বল্প সংখ্যক কিছু বিমান ওঠানামা শুরু করেছে দুবাই এবং আবুধাবিতে। সোমবার বেশি রাতের দিকে আবুধাবি থেকে একটি বিমান এসে পৌঁছেছে দিল্লিতে। তবে কলকাতা থেকে মঙ্গলবারও বাতিল রয়েছে পশ্চিম এশিয়াগামী ১০টি বিমান।
সোমবার দমদম বিমানবন্দর থেকে পশ্চিম এশিয়াগামী ২০টি বিমান বাতিল ছিল। মঙ্গলবার জানা যায়, যাওয়া-আসা মিলিয়ে মোট ১০টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। পাঁচটি যাওয়ার এবং পাঁচটি আসার। এমিরেট্সের দুবাই যাওয়ার দু’টি বিমান এবং সেখান থেকে ফেরার দু’টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ়েরও দোহা যাওয়ার এবং ফেরার একটি করে বিমান বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া আবুধাবি যাতায়াতেরও চারটি বিমান বাতিল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এতিহাদ এয়ারওয়েজ়ের এক জোড়া এবং এয়ার আরাবিয়ার এক জোড়া বিমান।
দুবাই, আবুধাবি-সহ পশ্চিম এশিয়ার বড় বিমানবন্দরগুলি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণের অন্যতম ‘হাব’। ভারত থেকে ইউরোপীয় কোনও দেশ বা আমেরিকায় যেতে হলে পশ্চিম এশিয়া হয়েই যেতে হয়। এ অবস্থায় বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়ে ভারত-সহ বহু দেশ। সংবাদসংস্থা ‘এপি’ জানাচ্ছে, বিভিন্ন দেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে অনুরোধ করা হয় বিমানবন্দরগুলি খুলে দেওয়ার জন্য। এর পরই সোমবার বেশি রাতের দিকে সীমিত পরিসরে পরিষেবা চালু করা হয় দুবাই এবং আবুধাবি থেকে।
ইতিমধ্যে বেশ কিছু বিমান দুই বিমানবন্দর থেকেই যাতায়াত করা শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। আবুধাবি থেকে সোমবার বেশি রাতের দিকে একটি বিমান এসে পৌঁছোয় নয়াদিল্লিতে। এতিহাদ উড়ান সংস্থার একটি বিমান আবুধাবি থেকে পৌঁছেছে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। এ ছাড়া মস্কো, প্যারিস, কায়েরো এবং করাচির উদ্দেশেও রওনা দিয়েছে বিমান।
তবে কোন বিমান কখন উ়়ড়বে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। পরিষেবা চালু হওয়ার পরেও মাঝ-আকাশ থেকে ফিরতে হচ্ছে বেশ কিছু বিমানকে। যেমন দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই থেকে এমিরেট্সের বিমান দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে যাওয়ায় মাঝ-আকাশ থেকেই আবার ফিরে আসতে হয়েছে সেগুলিকে। মুম্বই থেকে রওনা দেওয়া একটি বিমান অবশ্য দুবাইয়ে পৌঁছোতে পেরেছে। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালে মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল হয়েছে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার বহু বিমানও।
এই অনিশ্চয়তার মাঝে ভারতীয় উড়ান সংস্থাগুলি কিছু বিশেষ পরিষেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার জন্যই এই বিশেষ পরিষেবাগুলি চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার ইন্ডিগো এমন ১০টি বিশেষ পরিষেবা দেবে। স্পাইসজেটও চারটি বিশেষ বিমান পরিষেবা দেবে মঙ্গলবার। ইন্ডিগোর বিমানগুলি ছাড়বে সৌদির জেড্ডা থেকে। স্পাইসজেটের বিমানগুলি ছাড়বে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা থেকে।