Donald Trump Board of Peace

ট্রাম্পকে খুশি করতেই কি ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ পাকিস্তানের, শাহবাজ় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সে দেশের বিরোধীরা

বুধবার পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়, গাজ়ায় শান্তি ফেরানোর জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ তারা যোগ দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৮
Share:

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শাহবাজ শরিফ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু ইসলামাবাদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানের অন্দরমহলেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সে দেশের বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আইনসভায় কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহবাজ় শরিফের সরকার।

Advertisement

বুধবার পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়, গাজ়ায় শান্তি ফেরানোর জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ তারা যোগ দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়। এই প্রসঙ্গে পাক আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটের বিরোধী নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এই সিদ্ধান্ত নৈতিক ভাবে ঠিক নয়। নীতিগত কিংবা আদর্শগত থেকেও এটা ঠিক নয়।”

‘বোর্ড অফ পিস’-এ পাকিস্তানের যোগদানের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পাক সেনেটের বিরোধী নেতার সংযোজন, “এটি বাস্তবায়িত হলে গাজ়ায় প্যালেস্টাইনিরা প্রশাসন পরিচালনার অধিকার হারাবেন। বাইরে থেকে সবটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।” প্রায় একই সুরে পাকিস্তানের আর এক বিরোধী দল তেহরিক-ই-তাহাফুজ়-ই-আয়িন-ই-পাকিস্তানের নেতা মুস্তাফা নওয়াজ খোখর অভিযোগ করেন যে, বোর্ড অফ পিস-এ যোগদান নিয়ে আইনসভায় আলোচনা না-করে স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস করেছে শাহবাজ় সরকার। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘বোর্ড অফ পিস’-এ নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্প এবং আমেরিকার হাতে। এর ফলে যে কোনও বিষয়ে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেন তিনি।

Advertisement

পাকিস্তানের লেখক তথা সাংবাদিক জ়াহিদ হুসেনও পাক সরকারের এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-কে তিনি জানান, বোর্ড অফ পিস-এ যোগদানের বিষয়ে আরও একটু চিন্তাভাবনা করতে পারত পাকিস্তান। অন্য দেশগুলি কী করছে, তা আগে দেখে নিতে পারত। পাক সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে নিয়ে আমরা কি তাঁর সুনজরে থাকার চেষ্টা করছি?”

প্রাথমিক ভাবে গাজ়া শান্তি ফেরানোর জন্য তৈরি হলেও ‘বোর্ড অফ পিস’-এর নেপথ্যে ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নতুন আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করতে চাইছেন ট্রাম্প। প্রাথমিক ভাবে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর কাজ শুরু হবে গাজ়া দিয়ে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সফল হলে বিশ্বের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও এই বোর্ড কাজ করবে। ইতিমধ্যেই ভারত-সহ ৫০টিরও বেশি দেশকে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিলে তিন বছরের সদস্যপদ পাবে দেশগুলি। ১০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা) দিলে মিলবে স্থায়ী সদস্যপদ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement