দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করল পাকিস্তান। — প্রতীকী চিত্র।
সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে এ বার জোর দিচ্ছে পাকিস্তানও! নিজেদের দেশে তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’ এ বার পরীক্ষামূলক ভাবে উৎক্ষেপণ করল রাওয়ালপিন্ডি। সিঁদুর অভিযানের পরে ভারত সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। পাল্লা বাড়ানো হচ্ছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রেরও। তার পরেই দেখা গেল, পাকিস্তানও নিজেদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল।
রাওয়ালপিণ্ডিতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদর দফতর থেকে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র ৬০০ কিলোমিটার দূরের নিশানায় আঘাত হানতে পারে। স্থল ভাগ এবং সমুদ্র উভয় জায়গাতেই লক্ষবস্তুতে অব্যর্থ আঘাত হানতে সক্ষম এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ঘটনাচক্রে, সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসকে আরও শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগী হয়েছে ভারত। নয়া সংস্করণে স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা ব্রহ্মসের পাল্লা হবে ৮০০ কিলোমিটার।
গত মাসেই বঙ্গোপসাগরে পরীক্ষামূলক ভাবে একটি ব্রহ্মস উৎক্ষেপণ করেছে ভারতীয় সেনা। জানা যাচ্ছে, পরীক্ষার সকল মাপকাঠিতেই সফল হয়েছে ব্রহ্মস। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের তৈরি তৈমুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম বারের জন্য পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করল পাকিস্তানও। রাওয়ালপিন্ডি থেকে পাক সেনা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, খুব কম উচ্চতায় উড়তে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। তাদের দাবি, যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও ফাঁকি দিতে পারে তৈমুর। তবে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ কোথা থেকে করা হয়েছে, তা রাওয়ালপিন্ডির বিবৃতিতে উল্লেখ নেই।
বস্তুত, সিঁদুর অভিযান চলাকালীন শত্রুঘাঁটিতে অব্যর্থ নিশানা শানিয়েছে ভারতের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। তার ক্ষমতা চাক্ষুষ করেছে গোটা বিশ্ব। স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার। নতুন পাঁচ দফা পরিকল্পনায় ব্রহ্মসের পাল্লা এবং গতিবেগ দু’টিই বাড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, নয়া সংস্করণে স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা হবে ৮০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি, সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিবেগসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রের স্তরে উন্নীত হবে ব্রহ্মস।