(বাঁ দিক থেকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প, শাহবাজ় শরিফ এবং মোজতবা খামেনেই। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকা এবং ইরান মুখোমুখি আলোচনায় বসলে, তা কোথায় হতে পারে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি-ইঙ্গিতের পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে উঠে আসছে পাকিস্তানের নাম। রয়টার্স জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা এবং ইরান। জানা যাচ্ছে, তুরস্ক এবং মিশরও পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলার ফলে গত সাড়ে তিন সপ্তাহ ধরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় এক অস্থিরতা তৈরি হয়ে রয়েছে। বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। যার প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের বাণিজ্যে। এ অবস্থায় গত শনিবারই ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দেন, ইরান হরমুজ় প্রণালী না খুলে দিলে তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে আমেরিকা। কিন্তু সেই দাবি থেকে সোমবার হঠাৎই ‘পিছু হটেন’ ট্রাম্প। জানান, ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী পাঁচ দিন হামলা হবে না। ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্বে তা ইতিবাচক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তেহরান অবশ্য দাবি, এমন কোনও আলোচনাই হয়নি আমেরিকার সঙ্গে। তবে ইউরোপীয় বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সরাসরি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়নি ঠিকই। তবে ‘পরোক্ষ আলোচনা’ হয়েছে। মিশর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করেছে। এক পাকিস্তানি আধিকারিক এবং ইজ়রায়েলের বেশ কয়েক জন আধিকারিক সূত্রে রয়টার্স জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা এবং ইরান।
ইজ়রায়েলি সূত্রের দাবি, আমেরিকার প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং দুই কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন সে দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। ‘দ্য টাইম্স’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, উইটকফ ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। যদিও পাকিস্তানে এই বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউস সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু জানায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-ও জানাচ্ছে, তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তান গত দু’দিন ধরে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করে যাচ্ছে। তিন দেশেরই বিদেশমন্ত্রীরা গত কয়েক দিনে উইটকফ এবং ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে ওই রিপোর্টে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিনান্সিয়াল টাইম্স’ অনুযায়ী, যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করতে চাইছে পাকিস্তান। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক ইসলামাবাদে করার জন্য প্রস্তাবও পাকিস্তানই দেয় ট্রাম্প প্রশাসনকে। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের। তার পরের দিন, সোমবারই আবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ।