Greenland Row

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নেই আমেরিকা বা ডেনমার্কের! একজোটে জানাল সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সে দেশ থেকে আমেরিকায় তুলে আনার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে গ্রিনল্যান্ড। তিনি দ্বীপটির দখল চান বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। তার প্রতিবাদে সরব হয়েছে গ্রিনল্যান্ড।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৯
Share:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিগ্রহণের দাবি নিয়ে যৌথ বিবৃতি গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলির। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদেরই। মার্কিন বা ডেনমার্ক ঠিক করবে না। গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টে সব রাজনৈতিক দল যৌথ বিবৃতি দিয়ে এমনই জানিয়েছে।

Advertisement

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সে দেশ থেকে আমেরিকায় তুলে আনার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে গ্রিনল্যান্ড। তিনি দ্বীপটির দখল চান বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। এক বার নয়, বিগত কয়েক দিনে বার বার নিজের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্রিনল্যাল্ড তাঁর চাই। তিনি বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এটা কৌশলগত ব্যাপার।” তবে গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, তারা কারও হস্তক্ষেপ চায় না। এই মর্মে গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টে সব দল মিলিত ভাবে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না। ড্যানিশ হতে চাই না। আমরা চাই গ্রিনল্যান্ডবাসী হতে।’’ সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি ওয়াশিংটনের প্রতি বার্তা দিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রতি তাদের অবজ্ঞাপূর্ণ মনোভাব বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘গ্রিনল্যান্ডের মর্যাদা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেশের বাসিন্দাদের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত।’’

Advertisement

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চান বলে শুক্রবার আবার এক বার দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘দ্বীপটিতে চিন এবং রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার রোধে আমেরিকা পদক্ষেপ করবে। মানুষ পছন্দ করুক বা না-করুক, আমরা গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে কিছু একটা করতে যাচ্ছি।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, যদি আমেরিকা কোনও পদক্ষেপ না-করে তবে মস্কো বা বেজিং গ্রিনল্যান্ডে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘চিন বা রাশিয়া আমরা কখনওই প্রতিবেশী হিসাবে চাই না।’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘আমি এ ব্যাপারে সহজ উপায়ে একটি চুক্তি করতে চাই। যদি তা নয়, তবে কঠিন পথ অবলম্বন করা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।’’

ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ‘বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ’ প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোপেনহাগেন (ডেনমার্কের রাজধানী)-এর নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয় ডেনমার্ক সরকার। দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে ট্রাম্প গত ১১ মাসে একাধিক বার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ বার সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি একসঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধিতায় সরব হল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement