আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
ভেনেজ়ুয়েলা আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের বাজারে অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠতে পারে! আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময়ের জন্য কমে যেতে পারে অপরিশোধিত তেলের দামও। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে বহুজাতিক মার্কিন সংস্থা জেপি মর্গান।
রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভেনেজ়ুয়েলায় কোনও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আগামী দশকে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি বিশ্বে তেল সরবরাহের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠবে। এর ফলে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারেও বদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে তারা। ভেনেজ়ুয়েলা বর্তমানে প্রতিদিন ৭,৫০,০০০-৮,০০,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তা আরও বেড়ে দিনে ১৩-১৪ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছে যেতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগ ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেলে আগামী এক দশকের মধ্যে তা প্রতিদিন ২৫ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছে যেতে পারে বলে অনুমান করছে জেপি মর্গান।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে আমেরিকা। বর্তমানে সে দেশ পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী প্রশাসন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা আগে ভেনেজ়ুয়েলাকে সংস্কার করতে চান। তার পরে সে দেশে সাধারণ নির্বাচন করানোর পক্ষপাতী তিনি। এমন অবস্থায় জেপি মর্গানের ‘অয়েল মার্কেট্স উইকলি’-তে জানানো হচ্ছে, ভেনেজ়ুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন এলে অপরিশোধিত তেলের বাজারেও বদল আসবে।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তৈলভান্ডার রয়েছে। অনুমান করা হয়, ভেনেজ়ুয়েলায় মাটির নীচে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। বর্তমানে ভেনেজ়ুয়েলায় তেল উত্তোলন কমে এলেও কয়েক দশক আগে পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। সূত্রের দাবি, নম্বইয়ের দশকে এই দেশে প্রতিদিন ৩৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন হত। তবে ২০০০ সালের শুরু থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ভেনেজ়ুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ় সে দেশের তৈলক্ষেত্রের জাতীয়করণ নীতি কার্যকর কেন। ফলে ভেনেজ়ুয়েলায় তেল উত্তোলন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকা। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও কমতে থাকে।
তবে মাদুরো-হরণের পরে ভেনেজ়ুয়েলাকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে তৈলনীতি বদল করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসন আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ তেল দেবে, যা বিক্রি হবে বাজারমূল্যে! উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেরিকার বিভিন্ন ব়ড় তৈল সংস্থাও ভেনেজ়ুয়েলায় বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের আলোচনাও চলছে। দীর্ঘ সময় পরে আবার ভেনেজ়ুয়েলায় বিনিয়োগ করতে পারে আমেরিকার সংস্থাগুলি।
জেপি মর্গানের রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভেনেজ়ুয়েলা রাজনৈতিক ভাবে স্থিতিশীল হলে এবং একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি হলে শেভরন, এক্সনমোবিল এবং কনোকোফিলিপসের মতো মার্কিন সংস্থাগুলি আবার ভেনেজ়ুয়েলায় প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি স্পেনের রেপসল এবং ইটালির এনআই-এর মতো ইউরোপীয় তৈল সংস্থাগুলিও বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে তেল উত্তোলনের হারও বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামও কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে প্রাথমিক ভাবে বাজারে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। সাময়িক ভাবে তেল উত্তোলন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে তারা। যদিও এই ধাক্কা স্বল্পস্থায়ী হবে বলেই মনে করছে তারা। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তেল উত্তোলনের হারও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি তাদের।