(বাঁ দিক থেকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শীঘ্রই সমঝোতা হতে পারে। ৬০ দিনের মধ্যে হতে পারে স্থায়ী চুক্তি। এমনটাই দাবি করা হচ্ছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান সূত্রে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চুক্তি চায়। দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ তিনি চাইলেই আরও বৃদ্ধি করতে পারেন। তবে তার প্রয়োজন হবে না বলেই ট্রাম্প আশাবাদী। এমনকি, সপ্তাহান্তে ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদল ফের বৈঠকে বসতে পারে বলে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। পাকিস্তানের সূত্রেও শীঘ্র স্থায়ী চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আগেই নিয়েছিল পাকিস্তান। তাদের উদ্যোগে ইসলামাবাদে যুযুধান দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছিল। তবে ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। সমঝোতায় আসতে পারেনি কোনও পক্ষ। এর পরেও হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। মনে করা হচ্ছে, পাক কূটনীতির মূলে রয়েছেন একজনই। তিনি দেশের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। গত বুধবার তিনি ইরানের রাজধানী তেহরানে গিয়েছেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাক সূত্রে উল্লেখ করে রয়টার্স জানিয়েছে, এখনও তিনি তেহরানেই আছেন। ইরানের নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন মুনির। যে সমস্ত বিষয় নিয়ে জটিলতা এবং মতানৈক্য, সেগুলি নিয়েই তিনি আলোচনা করছেন। পাক সূত্রের দাবি, আমেরিকার প্রস্তাবে ইরানকে রাজি করানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তিনি নিয়েছেন। এই গোপন কূটনীতিতেই আসতে চলেছে সাফল্য।
রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরানে পাকিস্তানের গোপন কূটনীতিতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ইরান এবং আমেরিকা এর পর আলোচনায় বসলে সেখানেই হতে পারে সমঝোতা। প্রথমে একটি সমঝোতাপত্র এবং স্মারকলিপি স্বাক্ষর করবে দুই পক্ষ। তার পর বিশদ সমঝোতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে ৬০ দিনের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাক আধিকারিকের কথায়, ‘‘বিশদ চুক্তি পরে আসবে। আপাতত দুই পক্ষ নীতিগত ভাবে একমত হচ্ছে। কারিগরি বিষয়গুলি পরে দেখা হবে।’’
আমেরিকা এবং ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসবে কি না, কোথায় কবে সেই আলোচনা হবে, এখনও সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও তরফে কোনও ঘোষণা হয়নি। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শীঘ্রই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। তা স্বাক্ষরের জন্য তিনি নিজে ইসলামাবাদে যেতে পারেন বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে প্রথম দফার আলোচনায় তিনি পাঠিয়েছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে।