ইরানের জাহাজ। —ফাইল চিত্র।
চিন থেকে জলপথে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল নিয়ে যাচ্ছে ইরান? উপগ্রহচিত্র এবং অন্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর দাবি, এমন সম্ভাবনাই বেশি। সম্প্রতি চিনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের এক বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে দুই ইরানি জাহাজ। সেগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সোডিয়াম পারক্লোরেট থাকার সম্ভাবনাই প্রবল বলে দাবি করা হচ্ছে রিপোর্টে।
এই দুই জাহাজের বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ তুলেছিল আমেরিকা। আমেরিকার দাবি, এই দুই জাহাজে করে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় সামগ্রী তেহরানে নিয়ে যাওয়া হয়। দু’টিই ইরানের সরকারি সংস্থা ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান শিপিং লাইন্স’-এর। এই সংস্থার উপরে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই সংস্থার দুই জাহাজই সম্প্রতি চিনা বন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে জানানো হচ্ছে।
জাহাজ দু’টির নাম শবদিস এবং বারজ়িন। শবদিসে একসঙ্গে সাড়ে ছ’হাজার ২০ ফুট লম্বা কন্টেনার বহন করা যায়। বারজ়িন এক বারে এমন সাড়ে ১৪ হাজার কন্টেনার নিয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব চিনের ঝুহাইয়ে গাওলান বন্দরে জাহাজ দু’টি নোঙর করেছিল। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানাচ্ছে, এই বন্দর থেকে বিভিন্ন জাহাজে সোডিয়াম পারক্লোরেট-সহ বিভিন্ন রাসায়নিক বোঝাই করা হয়। রকেট জ্বালানি তৈরিতে কাজে লাগে এই সোডিয়াম পারক্লোরেট। নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্যও এই রাসায়নিক প্রয়োজন ইরানের।
বস্তুত, চলতি বছরে ইরানের সরকারি সংস্থার আরও বেশ কিছু জাহাজ এই বন্দরে গিয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই দুই জাহাজের চিনা বন্দরে যাওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে চিনের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকা। সে ক্ষেত্রে আমেরিকা যখন এই সংঘর্ষে জড়িয়ে রয়েছে, তখন অনেকেই মনে করছিলেন চিন সাবধানি পদক্ষেপই করবে। সে ক্ষেত্রে এই জাহাজগুলিকে চিন আরও কিছুটা সময় দেরি করাতে পারত বলে মনে করছেন ‘কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’-এর শীর্ষ গবেষক আইজ্যাক কার্ডন।
ইরানের এই সরকারি সংস্থার জাহাজগুলি সব ধরনের বাণিজ্যিক পণ্যই পরিবহণ করে। জাহাজগুলিতে কী ধরনের পণ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই জাহাজগুলিতে সোডিয়াম পারক্লোরেট থাকার সম্ভাবনাই প্রবল বলে মনে করছেন কার্ডন। এ বিষয়ে অবশ্য আমেরিকায় চিনা দূতাবাসের তরফে কোনও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পেন্টাগন, হোয়াইট হাউস এবং আমেরিকার রাজস্ব দফতর থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।