Russia-USA

ইউক্রেনকে সাহায্য করা বন্ধ করলে, ইরানের পাশ থেকে সরে দাঁড়াবে তারা, আমেরিকাকে প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া! দাবি রিপোর্টে

গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতে রাশিয়া যদি কোনও ভাবে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য পাচার করে, তা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব একটা খুশি হবেন না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১১:০৪
Share:

(বাঁ দিকে) ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কি, (মাঝে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, (ডান দিকে) রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফাইল চিত্র।

ইউক্রেনকে যদি সাহায্য করা বন্ধ করে আমেরিকা, তা হলে ইরানের পাশ থেকে সরে দাঁড়াবে তারা। আমেরিকাকে এমনই প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’র এক রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে।

Advertisement

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রুশ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভ। সেই বৈঠকেই আমেরিকাকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেন প্রসঙ্গে রাশিয়ার সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ইউক্রেনকে সামরিক দিক থেকে নানা ভাবে সহযোগিতাও করে আসছে আমেরিকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া সম্পর্কে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েও সহযোগিতা করছে আমেরিকা। আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুক্ত এমন দুই প্রশাসনিক কর্তার দাবিকে উদ্ধৃত করে ‘পলিটিকো’ জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে যদি আমেরিকা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করা বন্ধ করে, তা হলে সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতে ইরানের পাশ থেকে রাশিয়া সরে দাঁড়াবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও রাশিয়ার তরফে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের কোনও প্রস্তাবই দেওয়া হয়নি আমেরিকাকে।

Advertisement

এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা জোরালো হতে শুরু করেছে, রুশ প্রতিনিধি দিমিত্রিভ শুক্রবার এক্স হ্যান্ডলে দাবি করেন, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়ো। রিপাবলিকান নেতা অ্যানা পলিনা লুনা ‘পলিটিকো’র এই ধরনের প্রতিবেদনকে খণ্ডন করে ওই সংবাদমাধ্যমকে ইউক্রেনের ‘মুখপাত্র’ বলে কটাক্ষ করেছেন। লুনা তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘রাশিয়ার সঙ্গে কী বৈঠক হয়েছে, কী আলোচনা হয়েছে, তা কোনও ভাবেই বাইরে আসা সম্ভব নয়। এই ধরনের খবর ছড়িয়ে আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে একটা উত্তেজনার আবহ তৈরির চেষ্টা চলছে।’’

এ মাসের গোড়াতেই ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আবহে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেছে রাশিয়া। পশ্চিম এশিয়ায় কোথায় আমেরিকার রণতরী এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে, ইরানের হাতে সেই তথ্য তুলে দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। যদিও ক্রেমলিন সেই তথ্যকে খণ্ডন করেছে। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা সামরিক অভিযানে নামার পর থেকেই ইরানকে নানা রকম ভাবে সহযোগিতা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সেই তথ্যকেও খারিজ করেছে রাশিয়া।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতে রাশিয়া যদি কোনও ভাবে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য পাচার করে, তা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব একটা খুশি হবেন না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভাইট সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধি রাশিয়াকে বার্তা পাঠিয়েছেন যে, যদি এই ধরনের কোনও কাজ তারা করে থাকে, তা হলে সেটা ঠিক হচ্ছে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement