H1B Visa

নতুন নিয়মে আরও কোপ ‘এইচ-১বি’তে

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘ মেয়াদে আমেরিকায় কাজ করার জন্য কার্যত একমাত্র উপায় এই এইচ-১বি ভিসা। সারা পৃথিবী থেকে এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশ ভারতীয়।

মহুয়া সেন মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০৯:২৩
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এইচ-১বি ভিসা নিয়ে আমেরিকায় আসতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন এবং জটিল হয়ে উঠছে। এক দিকে, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ন্যূনতম মাইনে অনেক বাড়িয়ে চাপ বাড়ানো হচ্ছে নিয়োগকারী সংস্থাগুলির উপরে। অন্য দিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে লাগাতার বিপুল ছাঁটাইয়ের ফলে ঘোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ভারতীয় কর্মীরা। কারণ, কারও চাকরি গেলে মাত্র দু’মাসের জন্য বৈধ থাকে এইচ-১বি ভিসা। তার মধ্যে নতুন চাকরি না পেলে সব ছেড়েছুড়ে দেশে ফিরে আসা ছাড়া গত্যান্তর থাকবে না তাঁদের।

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘ মেয়াদে আমেরিকায় কাজ করার জন্য কার্যত একমাত্র উপায় এই এইচ-১বি ভিসা। সারা পৃথিবী থেকে এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশ ভারতীয়। ২০২৪-২৫-এর হিসাব বলছে, সেই আর্থিক বছরে যে ৪ লক্ষ ৬৩৪৮ জন এইচ-১বি ভিসা পেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৭২ জন ভারতীয় কর্মী।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসাধারীদের আমেরিকায় প্রবেশের উপরে এক লক্ষ ডলার ফি আরোপ করে, যার ফলে এই ভিসায় বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদদের নিয়োগ করতে এখন দু’বার ভাবছে বহু সংস্থা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এখানেই থামার পরিকল্পনা নেই ট্রাম্প প্রশাসনের। ২০২৬-২০২৭ সালে আরও কঠোর অভিবাসন আইন আনতে চলেছে তারা, যা এক দিকে নিয়োগকর্তা, অন্য দিকে ভিসাধারী এবং স্নাতকোত্তর পর্ব শেষে কাজ করতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপরে আরোপ করবে আরও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

এমনই একটি বিতর্কিত প্রস্তাব আইন হওয়ার পথে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে শ্রম দফতর একটি প্রস্তাব পেশ করেছিল, যা প্রচলিত বেতনের কাঠামো উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দেবে এবং এইচ-১বি ভিসাধারীর নিয়োগ আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে। এই নতুন নিয়মের ফলে এক জন কর্মীর অভিজ্ঞতার স্তর অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন ২১% থেকে ৩৩% পর্যন্ত বেড়ে যাবে। এ মাসের শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হবে এবং শ্রম দফতর এ বছরের শেষে বা সামনের বছরের শুরুতে এটি চূড়ান্ত করবে। ভিসাধারী কর্মীদের মাইনে এত বেড়ে গেলে আমেরিকান সংস্থাগুলি বিদেশি কর্মী উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে দেবে বলেই আশঙ্কাঅনাবাসী ভারতীয় মহলে।

অন্য দিকে, এ দেশে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় পেশাজীবী এক ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বড় বড় সংস্থায় ধারাবাহিক ছাঁটাইয়ের জেরে শুধু তাঁদের চাকরিই নয়, দেশে থাকার আইনি বৈধতাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মেটা, অ্যামাজ়ন এবং ওর‌্যাকল-এর মতো সংস্থাগুলি কর্মীসংখ্যাকমানো চালিয়ে যাওয়ায় এইচ-১বি ভিসাধারী বহু ভারতীয় কর্মী তাঁদের থাকার আইনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এখন নতুন স্পনসর খুঁজতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আমেরিকার অভিবাসন আইনে, এইচ-১বি ভিসাধারী কোনও কর্মী চাকরি হারালে তাঁকে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা সময়সীমা দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে নতুন স্পনসর না পেলে তাঁদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হতে পারে। এর ফলে বহু পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে অনেকে সাময়িক ভাবে বি-২ ‘ভিজ়িটর ভিসা’র আবেদন করছেন, কারণ এই ভিসায় নতুন চাকরির সুযোগ খোঁজার জন্য আরও ছ’মাস পর্যন্ত আমেরিকায় থেকে যাওয়া সম্ভব। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে দিয়ে জানাচ্ছেন, এই ভিসা পাওয়াও এখন আগের থেকে অনেক কঠিনহয়ে উঠছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন