ইয়াং শুয়াং-জ়ি এবং লিন কিং। ছবি: সমাজমাধ্যম।
নিষিদ্ধ প্রেম এবং মনমাতানো খাবার। ঔপনিবেশিক পটভূমি আর ভ্রমণপিপাসু দু’টি মেয়ে। এমনই চমকপ্রদ বিষয়বস্তু দিয়ে মোড়া এবং অনন্য কাহিনীবিন্যাসে সাজানো ‘তাইওয়ান ট্র্যাভেলগ’ জিতে নিল এ বছরের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার। এই প্রথম ম্যান্ডারিন চিনা ভাষা থেকে অনূদিত কোনও উপন্যাস এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার পেল। উপন্যাসের লেখিকা তাইওয়ানের বাসিন্দা ইয়াং শুয়াং-জ়ি, অনুবাদক লিন কিং। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা) লেখক ও অনুবাদকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে, ঠিক যেমন হয়েছিল গত বছর। ২০২৫ সালে কন্নড় ভাষায় লেখা গল্পসংগ্রহ ‘হার্ট ল্যাম্প’-এর জন্য এই খেতাব জিতে নিয়েছিলেন ভারতীয় লেখিকা বানু মুস্তাক এবং বইটির ইংরেজি অনুবাদক দীপা ভাস্তি।
‘তাইওয়ান ট্র্যাভেলগ’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০২০ সালে। ২০২৪-এ সেটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন লিন। মূল ম্যান্ডারিন সংস্করণ ২০২১ সালে তাইওয়ানের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান ‘গোল্ডেন ট্রাইপড অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিল। লিন কিংয়ের ইংরেজি অনুবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পরে সেটি আমেরিকার ‘ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ফর ট্রান্সলেটেড লিটারেচার’ পুরস্কার জিতে নেয়।
উপন্যাসের পটভূমি এক শতক আগের ঔপনিবেশিক তাইওয়ান। সালটা ১৯৩৮। সে সময়ে জাপানি শাসনের অধীনে থাকা তাইওয়ান ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুই নারী, চেখে দেখছেন স্থানীয় খাবার, আলাপ করছেন নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে এবং এ সবের মধ্যে দিয়ে ঝালিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের অস্তিত্ব, পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক।
উপন্যাসটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে পাঠকের মনে হয়, এটি কোনও কল্পকথা নয়, বহু বছর পরে উদ্ধার হওয়া একটি ভ্রমণকাহিনীর পাণ্ডুলিপি। কাল্পনিক ফুটনোটও ছিল বইটিতে। ফলে ২০২০ সালে প্রথম প্রকাশের পরে অনেক পাঠকই এটিকে সত্যিকারের ‘ঐতিহাসিক নথি’ বলে মনে করে নিয়েছিলেন। বুকারের বিচারকমণ্ডলীর প্রধান নাতাশা ব্রাউনের কথায়, “এক কথায় বলতে গেলে, এটি একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত উপন্যাস।”
উপন্যাসটির কেন্দ্রে রয়েছেন কাল্পনিক জাপানি লেখিকা আওয়ামা চিজ়ুকো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি তাইওয়ান সফরে গিয়েছেন। সঙ্গে তাইওয়ানিজ় অনুবাদক ও চিজ়ুরু। কাহিনীর শুরুতে তাঁদের সম্পর্ক ছিল শুধুই ভ্রমণসঙ্গীর। কিন্তু গল্প যত এগোয়, সম্পর্ক তত গভীর হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা প্রেমে পূর্ণতা পায়। তাঁরা একসঙ্গে তাইওয়ান চষে বেড়ান, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেন, মানুষের জীবনযাপন খুব কাছ থেকে দেখেন এবং এ ভাবে চলতে চলতেই অনুভব করেন, বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে নানা অদৃশ্য বিভাজন রয়েছে। এই ‘খাদ্যভ্রমণ’ই উপন্যাসটির প্রাণ। এখানে খাবার মানে নিছক খাবার নয়— এটি একই সঙ্গে এক জন মানুষের স্মৃতি ও তার আত্মপরিচয়ের ভাষা, এমনকি, তার শ্রেণি-অবস্থানেরও পরিচায়ক। এই দুই নারী চরিত্রের চোখ দিয়ে উপন্যাসে প্রেম, সংস্কৃতি, ঔপনিবেশিক ইতিহাস এবং সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণার আগে বুকার প্রাইজ় কমিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখিকা ৪১ বছর বয়সি ইয়াং মজার ছলে বলেছিলেন, “ভ্রমণ এবং খাবার— উপন্যাসের এই দুই মূল বিষয় নিয়ে গবেষণা আমার জীবনকে দু’ভাবে বদলে দিয়েছে। আমার সঞ্চয় কমেছে, আর ওজন বেড়েছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে