হরমুজ়ে অচলাবস্থার প্রভাব গ্যাস সরবরাহে। —ফাইল চিত্র।
ইরান-ইজ়রায়েলের সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে গেরস্তের হেঁশেলে! বেড়েছে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) দাম। এ বার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ) জানাল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সঙ্কট ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।
আইইএ-এর তরফে সদ্য প্রকাশিত ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে সঙ্কট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বাজারে ভারসাম্য ফিরতে দেরি হচ্ছে, ফলে উৎপাদন এবং মূল্য সংক্রান্ত অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।’’ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এলএনজি (বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস) উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক জেরে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট প্রায় ১২০০০ কোটি ঘনমিটার সরবরাহ ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলার জেরে ইরানের তরফে ‘অবরোধ’ ঘোষণার পরে মার্চ মাসের গোড়া থেকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্যে নজিরবিহীন বাধার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাজার থেকে কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে বলে আইইএ-র রিপোর্টে দাবি। এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথে এলএনজি পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অভিঘাত তৈরি হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে গ্যাসের দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সঙ্কটের এই পরিস্থিতিতে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিশাহি এলএনসি রফতানিতে রাশ টানার ফলে সরবরাহ-সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন এলএনজি পরিকাঠামো উন্নয়ন অন্তত দু’বছর পিছিয়ে যাবে বলে আইইএ-র আশঙ্কা।