যৌন হেনস্থার মতো অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির পদে ব্রেট ক্যাভানার হয়ে প্রথম থেকেই গলা ফাটাচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ক্যাভানা ও তাঁর পরিবারের কাছে দেশের হয়ে ক্ষমা চাইলেন প্রেসিডেন্ট। সোমবার হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে ক্যাভানার তৃতীয় শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘যে চূড়ান্ত হেনস্থা ও যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে ব্রেট ও তাঁর পরিবারকে যেতে হয়েছে, তার জন্য দেশের হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি।’’ তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা দেশের কাজে নিয়োজিত, তাঁদের স্বচ্ছ ও সম্মানজনক মূল্যায়ন হওয়া উচিত। মিথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রচার বা ব্যক্তিগত হেনস্থা যেন না করা হয়।’’
হাই স্কুলে পড়ার সময়ে ব্রেট তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপিকা ক্রিস্টিন ব্লেসি ফোর্ড। একই অভিযোগ আনেন আরও দুই মহিলা। সম্প্রতি সেনেটের বিচারবিভাগীয় কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে হেনস্থার কথা খুলে বলেন ক্রিস্টিন। ক্রিস্টিনের পাশে দাঁড়িয়ে সেনেটে ব্রেটের বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাটরা। সঙ্গে ছিল সাধারণ মানুষের সমর্থন। এক সময় পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল হয়ে যায় যে এফবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এফবিআই ক্লিনচিট দেয় ব্রেটকে। শনিবার সেনেটের ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত জিতে যায় রিপাবলিকানরা। জয় হয় ব্রেটের। এই জয়ে যে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন ট্রাম্প, তা তাঁর একের পর এক টুইটেই স্পষ্ট। সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে নিরপরাধ বলেই ধরে নেব।’’ হোয়াইট হাউসে বিরোধীদের একহাত নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ডেমোক্র্যাটদের চক্রান্তের শিকার ব্রেট।’’ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘ঐতিহাসিক পরীক্ষায় ব্রেট নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। কিন্তু তার জন্য তাঁর পরিবারকে যা সহ্য করতে হল তা স্বচ্ছতা ও শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।’’
তবে বিচারপতি হওয়ার পরে নিজের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই বেশি উৎসাহী ক্যাভানা। রাজনৈতিক দলগুলির থেকে দূরত্ব বজায় রেখে তিনি বলেছেন, ‘‘এক জন ভাল বিচারপতি হওয়াই আমার লক্ষ্য। এমন কেউ যিনি কোনও একটি বিশেষ পক্ষের নন।’’