US Green Card

গ্রিন কার্ডের আবেদনকারী বেশির ভাগ বিদেশিকেই আমেরিকা ছাড়তে হবে না! বিজ্ঞপ্তি-বিভ্রান্তি নিয়ে বলল ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতর জানাল, এটি কোনও সার্বিক পরিবর্তন নয়। এই নিয়ম আগে থেকেই ছিল। সেটি সঠিক ভাবে মেনে চলার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১৯:০৫
Share:

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

বিদেশি নাগরিকদের গ্রিন কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে এ বার ব্যাখ্যা দিল মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতর। তাদের দাবি, নিয়মে বিশেষ কিছুই বদল হয়নি। গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের বেশির ভাগকেই নিজের দেশে ফিরে যেতে হবে না। সামান্য সংখ্যক মানুষকেই নিজের দেশে ফিরে গিয়ে গ্রিন কার্ডের আবেদন জানাতে হবে।

Advertisement

গ্রিন কার্ড হল কোনও বিদেশি নাগরিকের আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের সরকারি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনও বিদেশি নাগরিক আমেরিকার নাগরিকত্ব পান না ঠিকই, তবে তাঁকে স্থায়ী ভাবে আমেরিকায় থাকতে এবং কাজ করতে দেওয়া হয়। সম্প্রতি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের অধীনস্থ নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সকল বিদেশি নাগরিককে নিজের দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার পরিষেবার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তির কথা জানাজানি হতেই অভিবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ বার তা নিয়ে ব্যাখ্যা দিল মার্কিন প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গ্রিন কার্ডের আবেদনের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীরা আমেরিকাতেই থাকতে পারেন। দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকায় এই রীতিই প্রচলিত রয়েছে। এ বার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতর জানাল, এটি কোনও সার্বিক পরিবর্তন নয়। এই নিয়ম আগে থেকেই ছিল। সেটি সঠিক ভাবে মেনে চলার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দফতরের আরও বক্তব্য, গ্রিন কার্ডের আবেদন করার জন্য কাকে নিজের দেশে ফিরে যেতে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আধিকারিকেরাই। এই ক্ষমতা বহু বছর ধরেই অভিবাসন আধিকারিকদের হাতে দেওয়া রয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।

Advertisement

‘নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স’ অনুযায়ী, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতর জানিয়েছে, আধিকারিকদের তাঁদের ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই ওই বিজ্ঞপ্তিটি দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে আধিকারিকেরা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে কাদের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দফতরের আধিকারিক সূত্রে বলা হচ্ছে, যাঁরা মেয়াদউত্তীর্ণ ভিসায় আমেরিকায় রয়ে গিয়েছেন বা যে সব দেশের নাগরিকেরা অত্যাধিক পরিমাণে সরকারি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল— তাঁরা গ্রিন কার্ড সংক্রান্ত নতুন বিধিতে প্রভাবিত হতে পারেন।

গ্রিন কার্ড সংক্রান্ত ওই বিজ্ঞপ্তি গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে মুখ খুলেছিল হোয়াইট হাউস। জানানো হয়েছিল, সেটি একটি অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তি। কোনও নীতিগত সিদ্ধান্তে বদল হয়নি বলেও জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। এ বার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরও ওই বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দিল। তবে কারা, কী ভাবে প্রভাবিত হতে পারেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এবং সুস্পষ্ট তথ্য এই ব্যাখ্যার পরেও মেলেনি। ফলে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা অভিবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা উদ্বেগ কাটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement