— প্রতীকী চিত্র।
আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনার পথে ‘কাঁটা’ হয়ে উঠেছে তিনটি বিষয়। এমনটাই দাবি ইরানের। পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসের অভাব, আমেরিকার ‘পরস্পরবিরোধী অবস্থান’ এবং লেবাননে ইজ়রায়েলি হানা— এই তিনটি কারণেই শান্তি আলোচনায় দেরি হচ্ছে বলে মনে করছে তেহরান।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার আমেরিকার এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন গুলি করে নামায় ইরান। তার জবাবে সোমবার ইরানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনীও। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কন্ট্রোল স্টেশন এবং দু’টি ড্রোন ওই হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি আমেরিকার। এর পরে পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। কুয়েতে এক মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তারা। যদিও তেহরানের ওই আক্রমণ মাঝ-আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
এই আক্রমণ এবং প্রতিআক্রমণের মাঝে দু’দেশের শান্তি আলোচনার পথ আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘেই বলেন, “চরম সন্দেহ এবং অবিশ্বাসের মাঝে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলছে। অপরপক্ষ (আমেরিকা) বার বার তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। নতুন কিংবা পরস্পরবিরোধী দাবি তুলে ধরছে। এ অবস্থায় আলোচনায় দেরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।” আমেরিকার পরস্পরবিরোধী মন্তব্য নিয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এগুলি যদি আমেরিকার কোনও চাল হয়, তবে তা ইরানের বিরুদ্ধে কাজে আসবে না।
পাশাপাশি লেবাননের উপর ইজ়রায়েল যে ভাবে হামলা চালাচ্ছে, তা-ও কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখতে চাইছে না ইরান। তেহরানের এ অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন বাঘেই। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বন্ধের উদ্দেশ্যে কোনও চুক্তি চূড়ান্ত করতে গেলে লেবাননে যুদ্ধবিরতিও নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুত, গত কয়েক দিন ধরেই দক্ষিণ লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। মূলত তাদের বিরুদ্ধেই লড়াই চালাচ্ছে ইজ়রায়েল। এ অবস্থায় ইরানের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।