US Military in Strait of Hormuz

নিঃশব্দে ৭০টি জাহাজকে হরমুজ় পার করিয়েছে মার্কিন বাহিনী, টেরও পায়নি ইরান! তালিকায় কি ভারতের বাণিজ্যতরীও?

ইরানের উপকূলের কাছে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে সারা বিশ্বের বহু বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৩৫
Share:

হরমুজ় প্রণালীর সঙ্কীর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত। ছবি: রয়টার্স।

হরমুজ় প্রণালীর কাছে নিঃশব্দে কাজ করে চলেছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। ওই জলপথ দিয়ে ইরানের নজর এড়িয়ে গত তিন সপ্তাহে প্রায় ৭০টি জাহাজ তারা পার করিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স সেন্ট্রাল কমান্ডের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানিয়েছে। কী ভাবে এই কাজ সম্ভব হচ্ছে, তার ইঙ্গিতও মিলেছে।

Advertisement

ইরানের উপকূলের কাছে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে সারা বিশ্বের বহু বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটছে। হরমুজ় প্রণালী দীর্ঘ সময় প্রায় বন্ধ করে রেখেছিল ইরান। সেখান দিয়ে কোনও জাহাজকে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। জলে পেতে রাখা হয়েছিল মাইন। পরে শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশকে জাহাজ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও বাধা আসছে বলে অভিযোগ। কোনও কোনও রিপোর্টে দাবি, হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর ইরান শুল্ক আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ়ে ইরান থেকে বা ইরানের উদ্দেশে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির বিরুদ্ধে অবরোধ চালাচ্ছে মার্কিন সেনা।

নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সের রিপোর্টে দাবি, পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ়ে প্রবেশ এবং হরমুজ় থেকে পারস্য উপসাগরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনীর সাহায্য নিয়েছে অন্তত ৭০টি জাহাজ। এদের মধ্যে অধিকাংশই হরমুজ় পার হওয়ার সময় ‘ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ করে রেখেছিল। ‘ট্রান্সপন্ডার’ হল ট্রান্সমিটার এবং রেসপন্ডারের সংমিশ্রনে তৈরি এমন একটি বৈদ্যুতিন যন্ত্র, যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে নির্দিষ্ট সঙ্কেত গ্রহণ করে এবং তার জবাবে তাৎক্ষণিক সঙ্কেত পাঠিয়ে দেয়। ‘ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ থাকায় ইরানের বাহিনী হরমুজ়ে জাহাজগুলির উপস্থিতি টের পায়নি।

Advertisement

কোন কোন জাহাজ ইরানের নজর এড়িয়ে হরমুজ় প্রণালী পার করেছে, কোথা থেকে কোন দিকে সেগুলি গিয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন আধিকারিকেরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে গত তিন সপ্তাহে একাধিক ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরিয়েছে। সেগুলির কোনওটি আমেরিকার সাহায্য নিয়েছিল কি না, স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির মুখেও কুলুপ। তারা কেবল জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের বিশেষ কৌশলগত পরিকল্পনায় হরমুজ় দিয়ে ভারতীয় জাহাজ যাতায়াত করতে পারছে। যদিও কিছু দিন আগে ওমান উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা হয়েছিল। কর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করা গেলেও জাহাজটি ডুবে গিয়েছিল। কারা সেই হামলা চালিয়েছে, জানা যায়নি।

মার্কিন আধিকারিকদের মতে, ইরানের নাকের ডগা দিয়ে তাদের না জানিয়ে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় অসম্ভব এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনও ভাবে ইরানের বাহিনী এই গতিবিধি টের পেলে বোমাবর্ষণ শুরু করে দেবে। তা সত্ত্বেও অত্যন্ত সন্তর্পণে মার্কিন বাহিনী কাজ করে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান থেকে দূরে ওমানের কাছাকাছি কোনও রুট ব্যবহার করছে এই সমস্ত জাহাজ।

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে দিনে অন্তত ১০০টি করে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করত। ফলে মার্কিন সাহায্যেও যে হরমুজ়ে জাহাজ চলাচল খুব স্বাভাবিক হয়েছে, তা বলা যাবে না। ‘ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ থাকায় ঠিক কতগুলি জাহাজ এ ভাবে যাতায়াত করছে, তা নির্ণয় করারও উপায় নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement