Donald Trump-Giorgia Meloni

‘আমার সঙ্গে ছবি তোলার বায়না ধরেন মেলোনি’! ট্রাম্পের কথা শুনেই ইটালির প্রধানমন্ত্রীর জবাব, ‘সব বানিয়ে বলছেন’

আলোচনার সূত্রপাত ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। ইটালির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বলেছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৯:০৫
Share:

(বাঁ দিকে) ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে বায়না ধরেছিলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে। সত্যিই কি মেলোনির তরফে এমন কোনও আবদার গিয়েছিল ট্রাম্পের কাছে? শোরগোল শুরু হতেই তার অবসান ঘটালেন খোদ ইটালির প্রধানমন্ত্রীই। ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে মেলোনি জানালেন, সব মনগড়া কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Advertisement

আলোচনার সূত্রপাত ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। ইটালির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বলেছিলেন। ইটালির প্রধানমন্ত্রী যাতে ‘দুঃখবোধ’ না-করেন সেই কারণেই ছবি তুলতে রাজি হয়েছিলেন।

পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ। সেই তালিকায় ছিল ইটালিও। হরমুজ় খোলার বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তাদের সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপের বেশির ভাগ শক্তিধর দেশই পিছিয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বার বার। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে আমেরিকার নীতি নিয়েও ইউরোপে ক্ষোভ ছিল। ইউরোপের অন্য দেশের মতো ইটালি-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপড়েনও খবরের শিরোনামে ছিল। সেই আবহে জি৭ সম্মেলনে ছবি তোলার জন্য মেলোনির ‘অনুরোধ’, আর তাতে ট্রাম্পের ‘রাজি’ হওয়া— নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

Advertisement

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি তাঁর (মেলোনি) সঙ্গে কথা বলায় সম্ভব তিনি খুশি হয়েছেন। আমার তাঁর সঙ্গে কথা বলার কোনও প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বায়না ধরেছিলেন। আমার সঙ্গে ছবি তুলতে মরিয়া ছিলেন। আমি হয়তো ছবি তুলতাম না, কিন্তু তাঁর জন্য আমার খারাপ লেগেছিল। তাই ছবি তুলি।’’

ট্রাম্পের এই দাবি ইটালি তো বটেই বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই বিষয় বেশি দূর এগোনোর আগে মেলোনি এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, বানানো। আমি শুনে হতবাক। আমি জানি না কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজের বন্ধুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন! এমন ঘটনা প্রথম নয়।’’ ইটালির প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই, এটা লজ্জার বিষয় যে পশ্চিম বিশ্বের শত্রুদের সঙ্গে বা আমেরিকার শত্রুদের সঙ্গে তিনি একই দৃঢ়তা দেখান না। অনেক বেশি নমনীয় আচরণ করেন। তবে তাঁকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে— আমি বা ইটালি কখনও ভিক্ষা করি না।’’

ট্রাম্পের মন্তব্য ইটালিতে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইটালির উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর আসন্ন মার্কিন সফর বাতিল করেছেন। ইটালির অন্য নেতামন্ত্রীদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ভাবে কখনওই কিছু কল্পনা করতে পারেন না।

মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের ‘সম্পর্ক’ এক সময় আলোচিত ছিল। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে একমাত্র ইউরোপীও প্রতিনিধি ছিলেন মেলোনি। তবে পোপ লিও-র বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে দুই রাষ্ট্রনেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই সমীকরণ আরও তলানিতে পৌঁছে যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement