Greenland Tension

গ্রিনল্যান্ড-শুল্ক আমি চাপাবই! ইউরোপকে ফের হুমকি দিলেন ট্রাম্প, বাণিজ্যযুদ্ধের ফল ভাল হবে না, সাবধান করল ব্রিটেনও

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রিটেন-সহ আট ইউরোপীয় দেশের উপরে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। দাবি না-মানলে ১ জুন থেকে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ শতাংশ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২০
Share:

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইউরোপীয় দেশগুলির উপরে গ্রিনল্যান্ড-শুল্ক তিনি চাপাবেনই। এর কোনও নড়চড় হবে না। সোমবার তা স্পষ্ট করে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্য দিকে, এই কূটনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে আমেরিকাকে সতর্ক করে দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারও। বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের পরিণাম কারও জন্যই ভাল হবে না।

Advertisement

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে আমেরিকা এবং ডেনমার্কের কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে জড়িয়ে গিয়েছে ইউরোপও। আধা স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের উপর বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্কের। ট্রাম্প চাইছেন সেই গ্রিনল্যান্ডকে ‘দখল’ করতে। যে ইউরোপীয় দেশগুলি ট্রাম্পের দাবিকে সমর্থন করছে না, তাদের উপরে শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। তালিকায় ডেনমার্ক তো বটেই, রয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্সের মতো আমেরিকার ‘বন্ধু’ কিছু দেশও।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই দেশগুলির উপরে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। দাবি না-মানলে ১ জুন থেকে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ শতাংশ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি এই সিদ্ধান্ত সত্যিই কার্যকর করবেন কি না, তা সোমবার জানতে চাওয়া হয় আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ অবশ্যই। আপনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত থাকুন, কার্যকর হবেই।”

Advertisement

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলির অবস্থান যে ট্রাম্প পছন্দ করছেন না, তা-ও সোমবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথায়, “ইউরোপের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে মন দেওয়া। সত্যি বলতে, আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন সেখানে কী চলছে। ইউরোপের উচিত গ্রিনল্যান্ডের বদলে ওই বিষয়টির উপরে মন দেওয়া।”

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কূটনৈতিক পদক্ষেপের জবাব দিতে কী কী সম্ভাব্য দিক খোলা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় বসেছে ইউরোপীয় দেশগুলি। ট্রাম্পের শুল্ক-কোপের জবাব দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে রয়েছে ‘ট্রেড বাজ়ুকা’ বা ‘শুল্ক-ব্রহ্মাস্ত্র’-এর মতো হাতিয়ারও। এর মাধ্যমে কোনও দেশের বিরুদ্ধে সমবেত ভাবে শুল্ক-কোপ বসাতে পারে ইউরোপীয় জোট। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি হওয়ার পর থেকে তা এখনও পর্যন্ত কোনও দেশের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়নি।

Advertisement

এই উত্তেজনার পরিস্থিতিতে আমেরিকা তথা সে দেশের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাবধান করে দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের পরিণাম কোনও পক্ষের জন্যই ভাল হবে না। সোমবার লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বক্তৃতার সময়ে স্টার্মার জানান, শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করাই হবে সঠিক পথ। বন্ধুরাষ্ট্রগুলির উপরে শুল্ক চাপানো কখনোই মতবিরোধ কাটানোর সঠিক উপায় হতে পারে না, তা-ও স্পষ্ট করেছেন তিনি। আমেরিকাকে এটি বাস্তবভিত্তিক পথ অবলম্বনের আহ্বান জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement