Iran-US-Israel Conflict

ইসলামাবাদেই কি মুখোমুখি বসবে ইরান ও আমেরিকা! ইঙ্গিত পাকিস্তানের, তেহরান বলল, ট্রাম্প সেনা নামালেও আত্মসমর্পণ নয়

রবিবার সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন দার। সূত্রের খবর, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেখানে। হরমুজ় প্রণালী আবার খোলানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ০১:১২
Share:

সংঘাতে বিধ্বস্ত ইরান। — ফাইল চিত্র।

আগামী দিনে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পারলে ‘সম্মানিত’ বোধ করবে পাকিস্তান। তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে এমনটাই জানালেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। তিনি আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতে বন্ধ করার এবং ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্য দিকে, আমেরিকার এক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইরানে সেনা নামাতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সেই নিয়ে প্রস্তুতিও হয়ে গিয়েছে। তেহরান যদিও চুপ করে নেই। তারা জানিয়েছে, আত্মসমর্পণ ইরান করবে না। সে দেশে পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘জয় ছাড়া এই যুদ্ধ শেষ হবে না’।

Advertisement

রবিবার সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন দার। সূত্রের খবর, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেখানে। হরমুজ় প্রণালী আবার খোলানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা আয়োজনের ইচ্ছা আগেই প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ জানিয়েছিলেন, আমেরিকা এবং ইরান রাজি থাকলে পাকিস্তানের মাটিতে তাঁরা আলোচনায় বসতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শাহবাজ়ের সেই পোস্টটি নিজেও পোস্ট করেছিলেন। রবিবারের বৈঠকের পরে দার বলেন, ‘‘দুই পক্ষ (আমেরিকা ও ইরান)-এর মধ্যে অর্থপূর্ণ আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারলে এবং তাতে মধ্যস্থতা করতে পারলে পাকিস্তান সম্মানিত বোধ করবে।’’ তিনি এ-ও জানান, তিন দেশের প্রতিনিধি পাকিস্তানের এই চেষ্টাকে সমর্থন করেছে।

স্থলঅভিযান

Advertisement

মার্কিন সাংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় আরও ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের চিন্তাভাবনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করে, তা হলে কি ইরান ভূখণ্ডে স্থল অভিযানে নামতে চলেছে আমেরিকা? তার পরই শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হয়, ৩৫০০ সেনা নিয়ে মার্কিন রণতরী পৌঁছেছে পশ্চিম এশিয়ায়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে আবার দাবি করা হয়েছে, খার্গ দ্বীপ দখল করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হরমুজ় প্রণালীর কাছে তটীয় এলাকায় নজরদারিও শুরু করেছে মার্কিন সেনা। ফলে সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিচ্ছে।

ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আমেরিকা যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তা হলে এমন হামলার মুখে পড়তে হবে ওদের, কল্পনা করতে পারবে না। তার পরই ভারতে ইরানের দূতাবাস থেকে এক্স হ্যান্ডলে তেহরান টাইমস সংবাদপত্রের প্রথম পাতা ট্যাগ করে লেখা হয়, ‘‘তোমাদের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’’

ইউক্রেনের দাবি

সৌদি আরবে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলার আগে সেখানকার উপগ্রহচিত্র ইরানকে সরবরাহ করেছিল রাশিয়া। এমনই দাবি করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। শুক্রবার সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সেই হামলায় ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হন। সেই হামলা নিয়ে মুখ খুললেন জ়েলেনস্কি। তাঁর দাবি, এই হামলায় ইরানকে সহযোগিতা করেছে রাশিয়া। যদিও এ প্রসঙ্গে ইরান বা রাশিয়া কোনও মন্তব্য করেনি।

ইরানের শর্ত

সংঘর্ষ থামানোর জন্য নতুন শর্ত দিয়েছে ইরান। হরমুজ় প্রণালীর উপরে পূর্ণ কর্তৃত্ব চাইছে তারা। ইরানের দাবি, ওই জলপথের উপরে তাদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আমেরিকার কাছে সেই শর্ত রেখেছে ইরান। প্রাথমিক ভাবে তেহরান যে শর্তগুলি রেখেছিল, তাতে এই দাবিটি ছিল না। আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামানোর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। আমেরিকার তরফে ১৫ দফা প্রস্তাব তারা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে ইরানের কাছে। কিন্তু এখনই আলোচনায় যেতে নারাজ তেহরান। আমেরিকা এই প্রস্তাব পাঠানোর আগে থেকেই ইরান তিন দফা শর্তের কথা বলে আসছিল। প্রথমত, ইরানকে তার ‘ন্যায্য অধিকার’ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ইরানের যে লোকসান হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে তারা আগামী দিনে ইরানে আর আক্রমণ করবে না। তবে হরমুজ় সংক্রান্ত কোনও শর্ত সেখানে ছিল না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement