আমেরিকার ‘সাইলেন্ট কিলার’ ইউএসএস শার্লট। ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকার ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয় তাকে। আবার সমুদ্রের ‘অদৃশ্য ভূত’ও বলা হয়। পশ্চিম এশিয়ার ইরানের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সামরিক সংঘাতের মাঝে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে ইরানের রণতরী আইআরআইএস ডেনা-কে নীরবে ধ্বংস করে ইউএসএস শার্লট নামের মার্কিন রণতরী। টর্পেডো ছুড়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয় ইরানের সেই রণতরীকে।
সূত্রের খবর, ডেনায় হামলা চালাতে মার্কিন নৌসেনা এমকে-৪৮ টর্পেডো ব্যবহার করে। তবে প্রথম বার রণতরীটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে, সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয় বারের নিশানা আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। একেবারে ডেনা-র পেটে গিয়ে আঘাত করে সেই টর্পেডো। সলিলসমাধি হয় ইরানের রণতরীর। ৮৭ জন নৌসেনার মৃত্যু হয়েছে এই হামলায়।
ইউএসএস শার্লট কোনও সাধারণ ডুবোজাহাজ নয়। মার্কিন নৌসেনার লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লাসের পরমাণু অস্ত্র বহনক্ষম ডুবোজাহাজ এটি। এর আকার, গঠন এবং প্রযুক্তি ইউএসএস শার্লট-কে এমন এক ভয়ানক ডুবোজাহাজের রূপ দিয়েছে, শত্রুপক্ষ যার গতিবিধি কোনও ভাবেই আঁচ করতে পারবে না। ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৬৯০০ টনের এই জাহাজ আমেরিকার নৌসেনার অন্যতম বড় শক্তি। সমুদ্রের নীচে মাইলের পর মাইল অতিক্রম করতে পারে কোনও রকম শব্দ ছাড়াই। চলার সময় যাতে কোনও রকম শব্দ না হয়, প্রতিপক্ষ যাতে কোনও ভাবে এর উপস্থিতি টের না পায়, সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই ডুবোজাহাজে। সমুদ্রে নীচে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটারের (৩০ নটিক্যাল মাইল) বেশি গতিতে ছুটতে পারে। পরমাণু শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাসের পর মাস চলাফেরা করতে পারে এই ডুবোজাহাজ। এই জাহাজে ১৩০ জন নৌসেনা থাকতে পারেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানের রণতরী ডেনায় হামলা চালায় আমেরিকার এই ডুবোজাহাজ। ভারতের আমন্ত্রণে বহুপাক্ষিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ইরানি রণতরী ডেনা। সেই মহড়া সেরে দেশে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কা উপকূলে সেটির উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে।