Iran-US Conflict

মার্কিন রণতরী জেরাল্ড ফোর্ড পশ্চিম এশিয়া ছাড়ল, ছিল পারস্য উপসাগরে, আমেরিকা কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত শুরু হতেই গত ফেব্রুয়ারিতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল জেরাল্ড ফোর্ডকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৪:৩৬
Share:

মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। ফাইল চিত্র।

আচমকাই পশ্চিম এশিয়া ছেড়ে গেল মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এটি যুদ্ধবিমান বহনকারী বিশ্বের সবচেয়ে বড় রণতরী। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত শুরু হতেই গত ফেব্রুয়ারিতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল জেরাল্ড ফোর্ডকে। আগেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনকে। তার পর পরে আরও দু’টি রণতরীকেও পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করে আমেরিকা।

Advertisement

কিন্তু এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় আমেরিকার। প্রথমে দু’সপ্তাহের জন্য সেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দু’দেশ। সেই সময়সীমা শেষ হতে আমেরিকা যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ায়। ফলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে দু’দেশের মধ্যে গোলাগুলি প্রায় বন্ধ। তবে হুমকি, পাল্টা হুমকির পর্ব চলছেই। তার মধ্যে ইরানের উপর আমেরিকা পাল্টা চাপ সৃষ্টি করার জন্য তারাও হুরমুজ়ের দু’পাশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এই অচলাবস্থা এবং সামরিক উত্তেজনার মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। যদিও ইরান আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। বরং তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরমাণু ক্রমসূচি এবং হরমুজ— এই দু’টি বিষয়কে আলোচনার তালিকায় রাখা যাবে না। যদিও ইরানের সেই প্রস্তাবে খুব একটা সন্তুষ্ট হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছেন।

তবে শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি লিখে ট্রাম্প জানান, গত ৭ এপ্রিল থেকে ইরানের সঙ্গে কোনও গোলাগুলি বিনিময় হয়নি। শুক্রবারই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়েছে। এর পরেও সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্প এখনও তা পাননি। তার মধ্যেই আমেরিকার সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী রণতরী পারস্য উপসাগর ছেড়ে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে যে, তা হলে কি এবার যুদ্ধ শেষ করার পথে হাঁটল আমেরিকা? যদিও এখনও বেশ কয়েকটি মার্কিন রণতরী মোতায়েন রয়েছে ওই অঞ্চলে।

Advertisement

তবে মার্কিন বাহিনীর এক সূত্র বলছে, পশ্চিম এশিয়ায় রণতরী আব্রাহম লিঙ্কন এবং জর্জ এইচডব্লিউ বুশ-সহ মোট ২০টি রণতরী এবং নৌবহর রয়েছে। দীর্ঘ ১০ মাস ধরে সফর করছে জেরাল্ড ফোর্ড। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সেটি মোতায়েন ছিল। ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযানেও জেরাল্ড ফোর্ড ছিল। ঘটনাচক্রে, গত ১২ মার্চ এই রণতরীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে মার্কিন বাহিনীর দাবি। দু’জন সেনা আহত হন। কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি রণতরীতে শৌচাগার নিয়েও ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর রণতরীটিকে গ্রিসের বন্দরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার জেরেই কি রণতরীকে পশ্চিম এশিয়া ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই জল্পনা বাড়ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement