আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে, তাতে ইউরোপের বন্ধু দেশগুলির থেকে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য পায়নি ওয়াশিংটন। অনেক দেশই যুদ্ধে জড়াতে চায়নি। কোনও কোনও দেশ আবার মার্কিন নীতির সমালোচনা করেছে রাখঢাক না-করেই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপের এই ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার পদক্ষেপের সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেললেন। নেটো-র সদস্য দেশ থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক জোট নেটো-র অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র জার্মানি। গত কয়েক দিন ধরে ইউরোপের এই দেশের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত প্রকট হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ় প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, সমঝোতা নিয়ে ইরান দ্বারা ‘অপমানিত’ হয়ে চলেছে আমেরিকাকে। তাঁর এই মন্তব্যের সমালোচনা করে পেন্টাগন। তার পর শুক্রবার জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তারা।
জার্মানিতে নিযুক্ত পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। এই মুহূর্তে ইউরোপের দেশটিতে ৩৫ হাজার মার্কিন সৈন্য রয়েছে। এটাই ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ।
পেন্টাগনের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, সমগ্র ইউরোপের ব্যবহারে হতাশা থেকেই জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে সমর্থন ইউরোপের কাছ থেকে আমেরিকা আশা করেছিল, তা পাওয়া যায়নি। এতে প্রশাসন ক্ষুব্ধ, বিরক্ত। জার্মান চ্যান্সেলরের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অনুপযুক্ত এবং অর্থহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন পেন্টাগনের ওই আধিকারিক।
ইউরোপের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প একাধিক বার দাবি করেছেন, সেখানকার দেশগুলি মার্কিন সেনার কাছ থেকে সবরকম সুযোগসুবিধা নিয়ে থাকে। কিন্তু পরিবর্তে আমেরিকার প্রয়োজনের সময়ে হাত গুটিয়ে নেয়। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে হরমুজ় প্রণালী নিয়ে যে বিতর্ক এবং অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে নেটো-র সদস্য দেশগুলির হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন ট্রাম্প। দাবি করেছিলেন, ইউরোপ থেকে নৌবাহিনী হরমুজ়ে পাঠানো হোক। তাতে ইরানকে চাপে রাখা যাবে। কিন্তু অধিকাংশ দেশই তা করতে রাজি হয়নি। শুধু জার্মানি নয়, ইটালি এবং স্পেনের সঙ্গেও আমেরিকার মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে।