ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় তার জন্য প্রয়োজনীয় সইসাবুদ হবে। সমাজমাধ্যমে এই চুক্তির কথা প্রথম ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। পরে আমেরিকা এবং ইরান তা নিশ্চিত করেছে। তবে চুক্তিতে রাজি হলেও আপাতত সতর্ক ইরান। তাদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কোনও ভাবেই তারা শত্রুকে এত দ্রুত বিশ্বাস করছে না। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
পাকিস্তানের ঘোষণার পর ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিমে তাঁর বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তি অবিলম্বে যুদ্ধে ইতি টানল। দু’মাসের মধ্যে দেশগুলি চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় বসবে। কাজ়েমের কথায়, ‘‘চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা হবে। তবে তার আগে চুক্তির অধীনে আমেরিকা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলি পালন করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। দেখা হবে, আদৌ তারা শত্রুতা ভুলে হরমুজ় প্রণালী থেকে অবরোধ তুলছে কি না, ইরানের আটকে রাখা সম্পদ মুক্ত করছে কি না।’’ ভবিষ্যতের চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক স্তরের একটি আলোচনা শুক্রবার জেনেভাতেই সেরে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কাজ়েম।
আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার স্মারকলিপির (মউ) খসড়া প্রস্তুত করেছে তেহরান। তাতে তাদের প্রাথমিক দাবিগুলির প্রত্যেকটি যোগ করা হয়েছে। শুক্রবার খাতায়কলমে চুক্তি স্বাক্ষরের পর সেই খসড়া প্রকাশ করবে ইরান। কাজ়েমের কথায়, ‘‘এই সমঝোতার অর্থ শত্রুকে বিশ্বাস করা নয়। আমরা আমেরিকার প্রতিশ্রুতি এবং দায়বদ্ধতার দিকে নজর রাখব।’’
কী কী আছে আমেরিকা-ইরানের প্রাথমিক চুক্তিতে? কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে আমেরিকাকে? ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে লেবানন-সহ সমস্ত দিকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে হবে। ইরানের বন্দরগুলি থেকে অবিলম্বে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করে নিতে হবে। কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘লেবানন-সহ সকল দিকে যুদ্ধ, যাবতীয় সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে আজ রাত থেকেই বন্ধ করতে হবে। অপরপক্ষ মউ অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তির সমঝোতা নিয়ে আলোচনাই শুরু হবে না।’’
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার জন্য প্রথম থেকে সচেষ্ট পাকিস্তান। এর আগে এক বার ইসলামাবাদে দুই দেশকে তারা মুখোমুখি আলোচনাতেও বসিয়েছিল। যদিও সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। এ ছাড়া, আরও কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করছিল। তেমন দুই দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তেহরান। শান্তিস্থাপনে পাকিস্তান এবং কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘পাকিস্তান এবং কাতারের চেষ্টা প্রশংসার্হ। তাদের দেশে শান্তি বজায় থাকুক।’’