Bangladesh Situation

আমার স্বামীকে পুড়িয়ে মারল ওরা, পুলিশ কেন কিছু করছে না? বাংলাদেশে নিহত খোকনের মৃতদেহ দেখেই হাহাকার স্ত্রীর

গত বুধবার শরীয়তপুরে হামলা হয়েছিল খোকন দাসের উপর। প্রথমে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয় তাঁকে। তার পর মাথায় পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৭
Share:

বাংলাদেশে নিহত ব্যবসায়ী খোকন দাসের দেহের পাশে বসে কান্না স্ত্রীর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাংলাদেশে নিহত খোকনচন্দ্র দাসের দেহ রাতেই হাসপাতাল থেকে তাঁর শরীয়তপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দেহের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন খোকনের স্ত্রী। কাঁদতে কাঁদতে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। রাতেই খোকনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, খোকনের উপর যাঁরা হামলা করেছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কাউকেই এখনও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তিন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনের নাম জখম অবস্থাতেই বলে গিয়েছিলেন খোকন। অভিযোগ, হামলাকারীদের চিনে ফেলেছিলেন বলেই তাঁকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

খোকনকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তার পর তাঁর মাথায় পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খোকন। শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। রাতে বাড়ির উঠোনে খোকনের দেহের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তাঁর স্ত্রী। চিৎকার করে বলছিলেন, ‘‘আমার স্বামীকে ওরা পুড়িয়ে মেরেছে। চার দিন সে হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। আমি তা দেখেছি। তাঁর শরীরের রক্ত ঝরেছে। সব রক্ত বেরিয়ে গিয়েছে।’’ খোকনের স্ত্রীর আরও সংযোজন, ‘‘ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেল। কেন এখনও কাউকে ধরা হল না? তাদের ধরতে হবে, শাস্তি দিতে হবে। পুলিশ কেন অবহেলা করছে?’’

Advertisement

খোকনের মৃত্যুতে ক্ষোভ বাড়ছে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালাতেন। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মহম্মদ রবিউল হক জানিয়েছেন, হামলাকারীরা কেউ এলাকায় নেই। পালিয়ে গিয়েছে। তাদের সন্ধান চলছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, খোকনের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের মতলব ছিল অভিযুক্তদের। খোকন সে রাতে ওষুধের দোকান থেকে সারা দিনের রোজগারের অর্থ নিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন। মনে করা হচ্ছে, ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় তাঁকে আক্রমণ করা হয়। দু’জনকে চিনে ফেলায় খুনের উদ্দেশ্যে খোকনের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। নিজেদের আনা মোটরসাইকেল থেকেই পেট্রল বার করে খোকনের গায়ে তারা ঢেলেছিল, অনুমান পুলিশের।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়ে আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত। কিছু দিন আগে ইনকিলাব ম়ঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে যে হিংসা ছড়ায়, তাতে ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, দীপুরে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। তার পর তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আলাদা করে বিবৃতি দিয়েছিল। তার পর শরীয়তপুরের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement