(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের সফরে ইজ়রায়েল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদার করতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক মউ সই হবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে। সরকার সূত্রের খবর, তার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬৮০ কোটি ইউরোর (প্রায় ৭২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা) অস্ত্র ক্রয় ও যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ সংক্রান্ত সমঝোতা।
বালাকোট অভিযানে জঙ্গিশিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্যাটেলাইট গাইডেড ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর-যুক্ত স্পাইস বোমা কিংবা ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে বিমানবাহিনীর গতিবিধির উপর নজরদারি করতে ‘হেরন টিবি’ ড্রোন এবং ‘ফ্যালকন’ এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) ব্যবহার— সাম্প্রতিক কালে নানা ঘটনাতেই ভারতীয় সেনার ইজ়রায়েল-নির্ভরতা নজরে এসেছে। মোদীর আসন্ন সফরে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী লেজার অস্ত্র, দূরপাল্লার ‘স্ট্যান্ড-অফ ক্ষেপণাস্ত্র’ (‘আকাশ থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতার বাইরে থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে নিখুঁত ভাবে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম) এবং ‘আত্মঘাতী’ ড্রোনের ক্রয় ও যৌথ উৎপাদন নিয়ে সমঝোতা হতে পারে।
শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হানা ঠেকাতে ইজ়রায়েলি সেনা মূলত তিন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে— ‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিড্স স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’ এবং আমেরিকার ‘থাড’ সিস্টেম। ইজ়রায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং আমেরিকার সংস্থা রেথিয়নের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘ডেভিড্স স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’ এখন ভারতের ‘নজরে’ বলে মনে করছেন অনেকেই। শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করে আকাশেই ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি রয়েছে এতে। ‘ডেভিড্স স্লিং’ স্বল্পপাল্লার এবং ‘অ্যারো’ দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে ব্যবহৃত হয়। ‘ডেভিড্স স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’-র উন্নততর সংস্করণ ‘অ্যারো-২’ এবং ‘অ্যারো-৩’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাল্লা প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ‘ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড’ ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার’ (পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের স্তর)-এই ধ্বংস করে দিতে পারে এই ব্যবস্থা।
‘আয়রম বিম’ নামে পরিচিত ৩০ কিলোওয়াটের লেজ়ার রশ্মি নির্ভর এই অস্ত্র ব্যবহারের খরচও প্রথাগত বিস্ফোরকবাহী ব্যালিস্টিক-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার তুলনায় অনেক কম। অপারেশন সিঁদুর-পর্বে ইজরায়েলি বোমাবাহী ‘কিলার ড্রোন’ হারপ ব্যবহারও করেছে ভারতীয় সেনা। স্পাইস-২০০০ বোমার পাশাপাশি ইজরায়েলের তৈরি ‘কুইক রিঅ্যাকশন’ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্পাইডার’ এবং বিমানে ব্যবহৃত ‘পাইথন’ ও ‘ডার্বি’-র সফল ব্যবহার হয়েছে সিঁদুর অভিযানে। ইজ়রায়েলি বিমানবাহিনীর অন্যতম অস্ত্র প্রিসিশন গাইডেড বোমা (স্মার্ট বম্ব) ‘মেইজ’ও রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার ভাঁড়ারে। মোদীর এ বারের ইজ়রায়েল সফরে ‘আয়রম বিম’-এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত বারাক-৮ এমআর-এসএএম/এলআর-এসএএম ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাইবার প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে বলে সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি।