মায়ের কাছে নয়, দু’মাসের ছোট্ট শিশুর স্থান হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা হোমে। শিশুটির ঠিকমতো যত্ন নেওয়া হয়নি— বিদেশের মাটিতে ফের এক ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে।
একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত নিউ জার্সির বাসিন্দা আশিস পারিক এবং তাঁর স্ত্রী বিদিশা এখন হন্যে হয়ে অপেক্ষা করছেন নিজেদের শিশুপুত্রকে ফিরে পাওয়ার জন্য। আশিসের পরিবারের তরফে জানানো হয়, মায়ের হাত ফস্কে পড়ে গিয়েছিল একরত্তি শিশুটি। যার জেরে সামনে থাকা টিভি স্ট্যান্ডে মাথা ঠুকে যায় শিশুটির। তার পরেই মাটিতে পড়ে যায় সে। স্থানীয় প্রশাসনের আবার দাবি, আশিস-বিদিশা তাঁদের বলেছেন শিশুটি খেলতে খেলতে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে নিজে থেকেই চোট পেয়েছে। একই পরিবারে এই দু’রকম দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
আশি,-বিদিশা বলছেন, স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করার পরে আর ছেলেকে ফিরে পাননি। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে এক বার ছেলেকে চোখের দেখাও দেখতে পাননি। হাসপাতাল থেকেই সোজা তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে হোমে।
হাসপাতালে বলা হয়, শিশুটির মাথার ভিতরে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আশবীর নামে ওই শিশুকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরাই ঘটনাটি শিশু অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত কমিটিকে জানান। তাঁদের বক্তব্য, ওই আঘাতের ফলে শিশুটি ‘শেকেন বেবি সিনড্রোম’-এর শিকার। যার ফলে খিঁচুনি, খিদে কমে যাওয়া, চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের মতো অসুবিধে হতে পারে আশবীরের। তাই প্রশাসনের সাফ কথা, বাবা-মা তাঁদের সন্তানের প্রতি যথেষ্ট অবহেলা করেছেন।
আশিস-বিদিশা বলছেন, এটা দুর্ঘটনা। তাঁরা নিজের বাচ্চার ক্ষতি করতে চেয়েছেন বলে মার্কিন প্রশাসন যে দাবি করছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন। বিদিশা ছেলের জন্ম দেন গত বছর অক্টোবরে। আর গত বছর অগস্টে তাঁরা নিউ জার্সিতে এসেছেন। গত সপ্তাহ থেকে তাঁদের ছেলে রয়েছে হোমে।
নিউ ইয়র্কের ভারতীয় কনস্যুলেট গোটা বিষয়টি জেনেছে। আশিস-বিদিশার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে তারা। তবে বিষয়টি কোর্ট পর্যন্ত গড়ানোয় আইনি প্রক্রিয়ায় সব কিছু দেখতে হবে বলে জানানো হয়েছে ভারতীয় কনস্যুলেটের তরফে। তাদের আশা, আর কিছু দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা কাটবে।
২০১২ সালে নিউ জার্সিতে একই সমস্যায় পড়েছিলেন এক ভারতীয় দম্পতি। তাঁদের এক বছরের ছেলে মাথায় আঘাত পায়। একই ভাবে তাকেও বাবা-মায়ের কাছ থেকে বেশ কিছু দিন দূরে থাকতে হয়েছিল।
ছেলেমেয়ের প্রতি যত্ন না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কর্মসূত্রে এক সময়ে নরওয়ের বাসিন্দা অনুরূপ এবং সাগরিকা ভট্টচার্যের বিরুদ্ধেও। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সন্তানদের ফিরে পেয়েছিলেন ওঁরা।