CO-POWERED BY
Back to
Advertisment

উৎসবের গ্যালারি

Raima-Nikhil: নিখিলের পছন্দ করা পোশাকে সাজলেন রাইমা, বিরিয়ানির ডিম, আলু ভাগাভাগিতে গাঢ় হল বন্ধুত্ব

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১২ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৩২
দাশুর সঙ্গে ছেঁড়া জিন্স আর টি-শার্টে ঘড়ির কাঁটা ধরে তিনি হাজির। রাইমা সেন। গোল গোল চোখে তার সবচেয়ে প্রিয় দাশু চিত্রগ্রাহক সোমনাথ রায়ের স্টুডিয়ো ঘুরে ঘুরে দেখছে। ঝপ করে নরম তুলতুলে দাশুকে কোলে নিয়ে রাইমা বললেন, ‘‘ও আমার সব। আমার সঙ্গে সব শ্যুটে ও যায়। তবে কাউকে বিরক্ত করে না।’’

রূপটান শিল্পী নবীন দাস রাইমাকে সাজাতে বসলেন। রাইমাকে তো সাজাতে হয় না। অল্প 'টাচ আপ'। তাতেই মোহময়ী। রাইমাও তাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।  পুজোতে শাড়ি কেনা হয় না রাইমার। ‘‘মা  আমাকে আর রিয়াকে অবশ্য কিছু না কিছু দেয়। দিদিমা আর মায়ের এত শাড়ি যে আমরা আর শাড়ি কিনি না,’’ বললেন রাইমা।
Advertisement
 এ সব সাজ শাড়ির গল্পের মাঝেই নায়কের প্রবেশ। না, তিনি সেলুলয়েডের নায়ক নন। এক সময়ে মানুষ তাঁকে নুসরত জাহানের স্বামী হিসেবে চিনেছিল। পরবর্তীকালে তাঁকে নুসরতের 'সহবাস সঙ্গী' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু নিখিল জৈন এই পরিচয়ের হেরফের বা বিতর্ক থেকে এখন শত হাত দূরে। নিজের বস্ত্র বিপণি নিয়ে মেতে আছেন খোশ মেজাজে। গোটা দেশ ঘুরে হারিয়ে যাওয়া কারুকাজ আর কাপড় তুলে আনছেন সকলের সামনে। শরীরচর্চা করে ঝরঝরে, সদাহাস্য তিনি।

নিখিলকে দেখে গল্পে মশগুল রাইমা। সোমনাথের সাজ-ঘরে সেজে নিলেন দু’জনে। কেউই চা ছাড়া আর কিছু খেতে চাইলেন না। নিখিলের বস্ত্র বিপণি 'রঙ্গোলি'-র পোশাকেই সাজলেন রাইমা।
Advertisement
দুই বন্ধুর গল্পের মাঝেই শুরু হল সপ্তমীর সাজ।

রাইমা এসে দাঁড়ালেন ক্যামেরার সামনে। স্যান্ডি তখন তাঁর ব্লাউজের সাজ ঠিক করছেন। নিখিল একটু দূরে রাইমার দিকে তাকিয়ে। রাইমা ডেকে নিলেন নিখিলকে।

নিখিল যেন একটু আড়ষ্ট। স্যান্ডি হাসিয়ে দিলেন এই জুটিকে। সহজ হলেন নিখিল। পোশাকের রঙের ছটায় আর বন্ধুত্বের জৌলুসে মেতে উঠল সপ্তমীর রাত।

এর মাঝেই দাশুর পুনরাবির্ভাব। দাশুকে নিয়েও ছবি তোলা হল। রাইমা বললেন, ‘‘দাশু খুব বিখ্যাত। ওর ইনস্টায় প্রোফাইল আছে। আমি আর রিয়া সেটার দেখাশোনা করি।’’

সাজতে সাজতেই গল্প। পুজোয় কী করবেন নিখিলের কাছে জানতে চাইলেন রাইমা। নরম মনের নিখিল রাইমার শাড়ির ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি করা কুর্তা চড়িয়ে বললেন,  ‘‘আগের বার যা বাজে কেটেছিল পুজো। এ বার প্রত্যেক দিন মজা। আড্ডা। খাওয়া।’’

 চলল খাওয়া ঘিরে প্রশ্ন-উত্তরের পর্ব। রাইমা: মাংস খাও তুমি? পুজোয় পাঁঠার মাংস খাবই আমি। নিখিল: না মাংস সে ভাবে খাই না। তবে পুজোয় যা যা ইচ্ছা করে, তা-ই করি। রাইমা: ডায়েট করছ? নিখিল: না, তেমন না। তবে আজকাল খেতে ইচ্ছা করে না। সকালে ডিম ভাজা খেয়েছি। তাতেই পেট ভরে গিয়েছে। এখন আর খাব না।

রাইমা: ওহ! ডিম ভাজা? আমি আজ দুপুরেই খাব। আমার তার মধ্যে মাশরুম চাই। চিজ চাই।  এই কথার মধ্যেই দেখা গেল সোমনাথ, নবীন, স্যান্ডি সক্কলে প্রস্তুত। অগত্যা দুই বন্ধুর গল্পের মাঝে ক্যামেরার খচখচ শব্দ বেজে উঠল।

রাইমা একসঙ্গে অনেক গল্প করে চললেন নিখিলের সঙ্গে। নিজের ফোন নিখিলের হাতে দিয়ে ইনস্টাগ্রামের কিছু সেটিং শিখে নিলেন। অন্য দিকে নিখিল বলে ওঠেন,  ‘‘রাইমা এ বারের পুজো তো তোমার। চারদিকে তোমার মুখ। কত ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করছ!’’

বন্ধুত্বের রং দু’জনের পোশাকে গাঢ় হয়ে ওঠে। কাঁধখোলা ব্লাউজে রাইমার সম্মোহনে কোথাও যেন মুগ্ধ নিখিল! শুধুই বন্ধুত্ব? প্রসঙ্গ উঠতেই ফোঁস করে ওঠেন রাইমা, ‘‘যা নয় তাই লেখা হচ্ছে আমাকে নিয়ে। আমি কোনও চিত্রগ্রাহকের সঙ্গে ছবি কি তুললাম, আর ১০টি গল্প হয়ে গেল। আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমার মা-বাবা আছেন। তাঁদের বন্ধুরা এই সব মিথ্যা গল্প ওঁদের পাঠান। খুব খারাপ লাগে। ভীষণ রেগে যাই।’’

নিখিল  বলে ওঠেন,  ‘‘নুসরতের থেকে আলাদা হওয়ার পরে যা গল্প শুনেছি আমার সম্পর্কে, তা নিয়ে কিছু বলার ভাষাই নেই। মানুষ কত নীচে নামতে পারে।’’

পরের পোশাক লালের স্পর্ধায় জড়ানো। লাল ভালবাসার রং। নিখিল এক রঙা কাপড়ের পাঞ্জাবি আর রাইমা সেই রঙের শাড়িতে সাক্ষাৎ দেবী হয়ে এলেন। স্যান্ডি হাতে ত্রিশূল ধরিয়ে দিতে নীরবে বেজে উঠল মহালয়ার দেবী আরাধনার গান।

আর একটু কাছে আসা। রাইমা বসলেন। নিখিল তাঁর কাধে হাত রাখলেন। আলো জ্বলে উঠল! গভীর হল রাত।

দু’জনে ভাগ করে সামান্য বিরিয়ানি খেলেন। বিরিয়ানির ডিম রাইমার প্রশ্রয়ে পৌঁছল নিখিলের পাতে। গল্প হল অনেক। পার্টি, ভাঙা প্রেম। বন্ধুত্ব। কাজ।

এ বার ফেরার পালা।এগিয়ে এলেন নিখিল,  ‘‘চলো, আমি তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি।’’ রাইমা বললেন, ‘‘আমার তো গাড়ি আছে। আর আমার সঙ্গে দাশুও যাবে। এত কিছু...।’’

রাইমার কথা ফুরোতে না দিয়ে নটে গাছটি দায়িত্ব নিয়ে মুড়িয়ে দিলেন নিখিল। বললেন, ‘‘আমার সঙ্গে চলো।’’ দু’জনে একসঙ্গেই গেলেন। মুখর অভিনেত্রীর সঙ্গে নীরবে থাকা এক ব্যবসায়ীর বন্ধুত্ব গাঢ় হল।

পোশাক: রঙ্গোলি। ছবি: সোমনাথ রায়। স্থান: সোমনাথ রায় স্টুডিয়ো। রূপটান: নবীন দাস। সাজ: স্যান্ডি। পরিকল্পনা এবং রূপায়ন: স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়।