CO-POWERED BY
Back to
Advertisment

উৎসবের গ্যালারি

Swastika Dutta: হাত থেকে জলে পড়ে গেল নাকের নথ, তার পর কী ভাবে সাজলেন স্বস্তিকা?

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৫৩
শাড়িরও তো অনেক রূপ হয়। প্রত্যেকটি প্রজন্মের আলাদা আলাদা কায়দা। সে সব কায়দাকে অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্তের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হল আনন্দবাজার অনলাইনের পুজোর ফোটোশ্যুটে। কখনও তিনি লাল পেড়ে সাদায় সাবেকি। কখনও কালো সিল্কের চৌকো পাড়ের নকশায় চৌকস।

স্বস্তিকা ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠতে পছন্দ করেন, তাই সকাল থেকেই শুরু শ্যুট। স্বস্তিকার শাড়ি এল বিশ্ব বাংলা থেকে। কোন শাড়িতে কেমন গয়না পরবেন তিনি? ঠোঁটের রং কেমন হবে? শাড়ি হাঁটুর স্পর্শ পাবে কিনা! এ সবের চিন্তা ছিল দেবত্রীর (বুকুন) মাথায়। চোখের চশমায় কাজলের নতুন ছোঁওয়া বা সিল্কের সঙ্গে কালো বুটের ঔদ্ধত্য! সব কিছুই দেবত্রীর মগজ থেকে বেরিয়ে এল।
Advertisement
সময় মতো সেখানে হাজির হয়েছিলেন চিত্রগ্রাহক দেবর্ষি সরকার, রূপটান শিল্পী চয়ন রায়। স্বস্তিকার কেশসজ্জার দায়িত্বও ছিল চয়নের উপরে।

চুলের ভাঁজ ঠিক করতে করতে স্বস্তিকা বললেন, ‘‘এ রকম সাজে নিজেকে আগে দেখিনি। বুকুনদির জন্য নিজেকে নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করার সাহস আর উৎসাহ পেলাম। সাধারণত আমরা মাথায় জুঁই বা গোলাপ ফুল দিই। জবা ফুল মাথায় দেব, এমনটি ভাবতে পারতাম না। আনন্দবাজার অনলাইনের জন্য সেই ফুল মাথায় পরেছি। বুঝলাম নিজেকে ঠিক মতো সাজিয়ে তুলতে পারলে, আত্মবিশ্বাস থাকলে, সেই সাজ মানুষ গ্রহণ করবেনই।’’
Advertisement
স্বস্তিকার হাসিতে প্রেমের ইঙ্গিত। শোভন কী পরে তাঁকে দেখতে চান? প্রশ্ন শুনে লজ্জা পেলেন স্বস্তিকা। একবার বলে উঠলেন, ‘‘এখানে শোভন কেন?’’ প্রশ্ন তো নাছোড়বান্দা। তাই জবাব এল, ‘‘শাড়ি’’।

স্বস্তিকা যে শাড়িগুলি পরেছিলেন, তা বিশ্ব বাংলার পুজোর সম্ভার থেকে নেওয়া। তিন রকমের সাজে সাজানো হয়েছিল ‘কী করে বলব তোমায়’ ধারাবাহিকের ‘রাধিকা’-কে।

প্রথমটি হল সিল্কের শাড়ি। কালোর উপরে রুপোলি জড়ি দেওয়া। ব্লাউজ হিসেবে স্বস্তিকা নিজের লুজ ফিটেড একটি জামা গায়ে দিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল ‘রঙ্গিলী’-র গয়না। গলায় ভারী হার, নাকে নথ, আঙুলে আংটি, কোমরে বন্ধনী।

দ্বিতীয় সাজে স্বস্তিকার শরীরে খেলে গেল অষ্টমীর হাওয়া। গায়ে  লাল পাড় সাদা শাড়ি। সোনালি জড়ি দেওয়া কোরা সিল্ক। তার সঙ্গে ‘পরমা’-র গাঢ় লাল ব্লাউজ। ‘আর্থামেন্টস’-এর গয়নায় সাজানো হয়েছিল স্বস্তিকাকে। এক হাতে দু’টি বালা, কানে দুল, আঙুলে আংটি।

তৃতীয় শাড়িটিতে সব রং এসে মিলে গেল শেষে। সুতির ছাপা শাড়িতে বন্দি হল স্বস্তিকার শরীর। সঙ্গে ‘পরমা’-র ব্লাউজ এবং ‘রঙ্গিলী’-র গয়না। কানে দুল, এক হাতে একটি বালা।

দেবত্রী তাঁর ভাবনা নিয়ে বলতে গিয়ে বললেন, ‘‘পুজোতে লাল পাড় সাদা শাড়ি সবাই পরেন। কিন্তু এই শাড়িটি কেবলমাত্র পুজোর আমেজ নয় বরং যে কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য মানানসই। অন্যদিকে কালো রঙ সব কিছুর সঙ্গেই ভাল লাগে। স্বস্তিকাকে সেই কালো শাড়িতেই অন্য ভাবে দেখতে চেয়েছিলাম। রং বেরঙের শাড়ি পরিয়ে স্বস্তিকার মতো এই প্রজন্মের সমস্ত মহিলার রঙিন সত্তাকে তুলে ধরতে চেয়েছি।’’

কেশসজ্জার ক্ষেত্রেও নতুনত্ব আনা হয়েছে সাজে। কোথাও তাঁর মাথার পিছনে দু’টি খোঁপা করে মাথার সামনে থেকে অল্প কয়েক গাছি চুল খুলে রাখা হয়েছে। কোথাও সাবেকি কায়দায় একটি খোঁপা করে জবা ফুল দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার কোঁকড়ানো চুলে দেখা দিয়েছেন স্বস্তিকা।

স্বস্তিকার কথায়, ‘‘আমি তো মডেল হিসেবে কাজ করেছি। আমাকে যা সাজাবে, তা-ই মেনে নিতে হবে— এমন ধারণা ছিল আমার। কিন্তু সেখানে যাঁরা যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আমার মতামতও নিয়েছেন। সব মিলিয়ে খুব স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ হয়েছে।’’

স্যান্ডউইচ, কফি, ফিশ অ্যান্ড চিপস দিয়ে গোটা দিনের পেটপুজো সারার মাঝেই নাকছাবি হারিয়ে গেল স্বস্তিকার। সুইমিং পুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময়ে ঘটল অঘটন। নাকছাবি হলুদ বন ছেড়ে জলের কাছে হারিয়ে গেল!

নাকছাবি হারানোর মাঝে স্বস্তিকা পুজোর দিনের কথায় ফিরে গেলেন। পুজোর চারটি দিন কী ভাবে কাটাবেন স্বস্তিকা? প্রেমিক গায়ক শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম পুজো বলে কথা! স্বস্তিকা যদিও সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘‘আমার জীবনে পরিকল্পনা বলে কিছু নেই। যা হয় হুজুগে হয়। পুজোয় বেরোনোর পরিকল্পনা করিনি আলাদা করে। ভাবছি, শোভন এবং আমি আমাদের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাব। যাঁদের বাড়িতে পুজো হয়, সেখানে সেখানে ঢুঁ মারব।’’ শুধুই ঢুঁ?

সাজ: বুকুন। ছবি: দেবর্ষি সরকার। রূপটান: চয়ন রায়। পোশাক: বিশ্ব বাংলা। গয়না: আর্থামেন্টস এবং রঙ্গিলী। ব্লাউজ: পরমা। পরিকল্পনা এবং রূপায়ন: স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থান: ফেয়ারফিল্ড বাই ম্যারিয়ট।