অবনীন্দ্রনাথের 'ওয়াশ' ফিরছে জলচিত্রে, সন্তোষপুর লেকপল্লীর মণ্ডপ জুড়ে স্মৃতির আনাগোনা
ইতিহাস ছুঁয়ে শিল্পকে বাঁচানোর অঙ্গীকারে দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুর লেকপল্লীর।
সন্তোষপুর লেকপল্লী এ বার পা দিল ৬৮ বছরে। দক্ষিণ কলকাতার এই চেনা পূজো প্রতি বছরই আলাদা থিমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
ক্লাব সদস্য , সুভজিৎ মান্না জানান, এ বার তাদের ভাবনা—‘জলচিত্র’। ভাবনার রূপকার অনির্বাণ দাস, প্রতিমাশিল্পীও তিনি।
মণ্ডপসজ্জায় ধরা পড়বে সেই ফেলে আসা শিল্প-ঐতিহ্যের এক টুকরো, যা এক সময় ভারতীয় চারুকলায় রেনেসাঁ এনেছিল।
ভারতীয় চারুকলার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক এনেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ব্রিটিশ আমলে গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে মূলত তেলরঙের ব্যবহারই প্রচলিত ছিল।
তখন ভারতীয় শিল্পকে ফিরিয়ে আনার জন্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর জল রঙের ‘ওয়াশ টেকনিক’ শুরু করেন। অবনীন্দ্রনাথ কলেজের দায়িত্ব নেওয়ার পর ছাত্রছাত্রীদের তেলরঙের বাইরে এনে ভারতীয় শিল্পকলার দিকে টেনে নেন।
আরও পড়ুন:
তাঁর হাত ধরেই শুরু হয় ‘ওয়াশ টেকনিক’ বা জলরঙের নতুন ধারা। সেই শিল্প ভাষাই আজ ধরা দিচ্ছে লেকপল্লীর দুর্গোৎসবে।
প্যান্ডেলের প্রতিটি খুঁটিনাটি সাজানো হচ্ছে লোহা আর কাঠ দিয়ে।
দেওয়াল জুড়ে থাকবে জলরঙের নরম ধূসর টান, মণ্ডপসজ্জায় মিলবে ওয়াশ পেইন্টিংয়ের আবেশ।
এমনকী দুর্গা প্রতিমার গড়নেও সেই সূক্ষ্ম ছায়া ধরা পড়বে বলে জানাচ্ছেন আয়োজকেরা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের উৎসাহ, শিল্পীর ভাবনা আর ক্লাবের নিষ্ঠা—সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এই মণ্ডপ। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)