West Bengal Board of Secondary education

‘কাজে যোগ দেব কবে’! ওবিসি সংরক্ষণের সিঁদুরে মেঘে অনিশ্চয়তা এসএসসি শিক্ষক পদ প্রার্থীদের মনে

নতুন সরকার ক্ষমতা এসেই কিছু রদবদল ঘটিয়েছে। সরকার মনোনীত সব পদ বাতিল করা হয়েছে। তার ফলেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ও সচিব পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন পূর্বতন পদাধিকারীরা। তৈরি হয়েছে শূন্যতা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১৭:২২

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারাতে হয়েছিল তাঁদের। যোগ্যতা প্রমাণ করতে ১০ বছর পর ফের বসতে হয়েছে পরীক্ষায়। উত্তীর্ণ হয়েও দুশ্চিন্তা কাটছে না শিক্ষকদের।

Advertisement

তাঁরা সকলেই স্কুল শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন ২০১৬ সালে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে গোটা প্যানেলই বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। যে সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাঁদের ‘যোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত করে আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কিন্তু তার পর?

২০২৫-এ নতুন করে পরীক্ষা নিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে। বহু শিক্ষকই পরীক্ষা, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়েছে, নথি যাচাইকরণের পর সুপারিশপত্রও পেয়েছেন। কিন্তু কাজে যোগ দিতে পারেননি ১ জুন পর্যন্ত। কারণ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি এবং সচিব পদে এই মুহূর্তে কেউ দায়িত্বপ্রাপ্ত নন। থমকে গিয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এরই পাশাপাশি আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়ে তুলছে ওবিসি সংরক্ষণ জটিলতা।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং শুরু হয়। একাধিকবার সেই তালিকায় নানা ত্রুটি ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নতুন সরকার ক্ষমতা এসেই কিছু রদবদল ঘটিয়েছে। সরকার মনোনীত সব পদ বাতিল করা হয়েছে। তার ফলেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ও সচিব পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন পূর্বতন পদাধিকারীরা। তৈরি হয়েছে শূন্যতা। ১ জুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। ফলে অন্য কাজও এগোয়নি।

এতেই খানিক দোটানায় পড়েন শিক্ষক পদপ্রার্থীরা। ‘যোগ্য’ শিক্ষকের তালিকায় থাকা মালদহের এক শিক্ষক জানান, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে সুপারিশপত্র পেয়েছেন। এর পর পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছে। সব শেষে পর্ষদ তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা। তিনি বলেন, “গোটা প্রক্রিয়াটি ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। ১ জুন ৬০ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। কবে সব মিটবে, তা নিয়ে দোলাচল রয়েছে। কারণ এমন অনেক প্রার্থীই রয়েছেন, যাঁরা ৯০ দিন পরও স্কুলে যোগ দিতে পারেননি।”

এরই মধ্যে ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়েও সংশয়ে ভুগছেন তাঁরা।

আবার, নদিয়া জেলায় সুপারিশপত্র পেয়েছেন এমন এক শিক্ষকপদপ্রার্থী জানান, তিনি ২০২৫ সালেই প্রথম এসএসসি-র পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু সুপারিশ পত্র পাওয়ার পরে পুরো প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। সকলকেই ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়ার আতঙ্ক তাড়া করছে।

অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, “সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটিই থমকে রয়েছে। সরকারের কাছে আবেদন দ্রুত স্কুলসার্ভিস কমিশন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ও সচিব পদে নিয়োগ করা হোক।’’

Advertisement
আরও পড়ুন