প্রতীকী চিত্র।
ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে বৃহস্পতিবার শেষ হল মাধ্যমিক ২০২৬। গত দশ দিনের একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কোথাও দলবদ্ধ ভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছে পরীক্ষার্থীরা, আবার কোথাও টোকাটুকিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমনকি অফিসার ইন চার্জকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে পরীক্ষা শেষে জানিয়েছে পর্ষদ।
মাধ্যমিকের প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় কোনও না কোনও ছাত্র মোবাইল-সহ পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে ধরা পড়েছে। কেউ ধরা পড়েছে কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে নকল করার সময়। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষার দিন তেমন কোনও ঘটনার কথা জানা যায়নি। এ দিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৭,২৯৫।
বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদ জানিয়েছে, আগামী ১৪, ১৬ এবং ২৮ তারিখের মধ্যে পরীক্ষার সমস্ত খাতা পৌঁছে যাবে প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের কাছে। এ বার প্রধান পরীক্ষকের সংখ্যা ১৩৭৬। এ ছাড়া মোট ৫২০০০ পরীক্ষক খাতা দেখবেন। পরীক্ষা হয়েছিল ১৪৮৬ টি কেন্দ্রে।
পর্ষদ সূত্র্রে খবর, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রে এ বছর যেন পরীক্ষার্থীদের সঙ্গেই পাল্লা দিয়েছেন শিক্ষকেরা। এত স্তম্ভিত ওয়াকিবহালমহল। পর্ষদ সভাপতি রামনুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণে আমরা অবাক। ইতিমধ্যেই স্কুলগুলির কাছে তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে।”
জানা গিয়েছে, গত বুধবার ছিল মাধ্যমিকের জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র চুরি করে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করছিলেন এক শিক্ষক। পর্ষদ মনোনীত সদস্য অ্যাডিশনাল ভেন্যু সুপারভাইজারের কাছে ধরা পড়েন তিনি। মালদহের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলে ঘটনা। পর্ষদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটেছে ইতিহাস পরীক্ষার দিন। সে দিন ওই স্কুলের গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে পরীক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেওয়ার। জানা গিয়েছে, তিনি পরীক্ষার খাতা ব্যবহার করেই উত্তর লিখে এনেছিলেন।
একই স্কুলে দু’দিন দু’টি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নড়ে বসেছে পর্ষদ। ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষকের কাছে গত ৮ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের মোবাইল জমা দেওয়ার রেজিস্ট্রার খাতা চেয়ে পাঠিয়েছে।
অন্য দিকে, ইংরেজি পরীক্ষার দিন পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বচসার ঘটনা ঘটে। প্রধানশিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অন্য কয়েকজন শিক্ষক মিলে অফিসার ইনচার্জকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পর্ষদ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় প্রধানশিক্ষক, ছয় শিক্ষক, এক শিক্ষাকর্মী সাসপেন্ড করা হয়েছে।
পর্ষদের দাবি, তিনটি স্কুলে অভিযুক্ত মোট ৯ শিক্ষক ও এক শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে। অপরাধ প্রমাণ হলে পর্ষদের ২১৬ নম্বর ধারা মেনে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের চাকরিও চলে যেতে পারে।
মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে গত বছরের মত এ বছরও বেশ কিছু পরীক্ষার্থী বই ও খাতা ছিড়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে। এই প্রবণতা কেন? এর উত্তরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বই ও খাতা পড়ুয়াদের বন্ধু হওয়া উচিত। সেই বই খাতা ছেঁড়া কোনও ভাবেই কাম্য নয়। স্কুল ও অভিভাবকদের বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে জানা উচিত, কেন তারা এই ধরনের আচরণ করছে। পড়াশোনার চাপ থেকে কি এ রকম করছে। তবে বিষয়টি উদ্বেগের।”