West Bengal Assembly Election 2026

১৩ কোটির সম্পত্তি! সঙ্গে ছ’টি মামলা ঝুলছে রত্নার নামে, বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কত গয়নাগাটির মালিক?

বেহালা পশ্চিমে এর আগে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়ানোয় তাঁকে এ বার আর টিকিট দেওয়া হয়নি। তাঁর কেন্দ্রেই রত্নাকে প্রার্থী করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৬
Assets of Ratna Chatterjee the TMC Candidate from Behala Pashchim Assembly constitution

বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে নিম্ন আদালতে। এর আগে ২০২১ সালেও রত্না তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক। তবে এ বারের ভোটে তাঁর কেন্দ্র বদলে দিয়েছে দল।

Advertisement

বেহালা পশ্চিমে এর আগে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়ানোয় তাঁর সঙ্গে দূরত্ব রচনা করেছে দল। তাঁকে এ বার আর টিকিট দেওয়া হয়নি। তাঁর কেন্দ্রেই রত্নাকে প্রার্থী করা হয়েছে। রত্নার প্রাক্তন কেন্দ্র বেহালা পূর্বে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। পার্থের কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে রত্নাকে লড়তে হবে বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁর বিরুদ্ধে। জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন রত্না। গত ৬ এপ্রিল প্রার্থী হিসাবে তিনি নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

অপরাধের রেকর্ড

রত্নার নামে আপাতত ছ’টি মামলা ঝুলছে। তার মধ্যে পর্ণশ্রী থানায় পাঁচটি এবং রবীন্দ্র সরোবর থানায় একটি এফআইআর রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সম্পত্তি নষ্ট, আঘাত করা, ভয় দেখানো, অবৈধ জমায়েত, দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, ষড়যন্ত্র, শান্তি বিঘ্নিত করা, সম্পত্তি হরণের মতো অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। তবে কোনও মামলাতেই এখনও চার্জ গঠন হয়নি। ২০২১ সালে রত্নার নামে পাঁচটি এফআইআর ছিল। এ বছর এফআইআর-এর সংখ্যা একটি বেড়েছে। কোনও ক্ষেত্রেই রত্না দোষী সাব্যস্ত হননি।

সম্পত্তি ও অর্থ

হাতে ৪ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫৯০ টাকা নগদ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন রত্না। তাঁর বিভিন্ন ব্যাঙ্কে মোট ছ’টি সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ ছাড়া, সিইএসসি সিকিউরিটি ডিপোজ়িটে ৮২ হাজার টাকা এবং টার্ম ডিপোজ়িটে ৫৯ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা আছে। হোটেল, রেস্তরাঁ, ব্যাঙ্কোয়েট এবং মিউচুয়াল ফান্ড-সহ একাধিক জায়গায় বিনিয়োগ রয়েছে রত্নার। তিনটি জায়গা থেকে যথাক্রমে ১৬ লক্ষ, ১.৩১ লক্ষ এবং ৬৭ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছেন তিনি। তা শোধ করা বাকি।

হলফনামায় রত্না জানিয়েছেন, তাঁর দু’টি গাড়ি আছে। সেগুলির বাজারদর ১৮ লক্ষ এবং ৩৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া, মোট ৮৫৮.৭০০ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে রত্নার। তার বাজারদর ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৫১ হাজার ৩১০ টাকা। ১০০০ গ্রাম রুপোর গয়নাও তাঁর রয়েছে। সেগুলির মূল্য ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। মোবাইল, ল্যাপটপ, এসি-র মতো সামগ্রীর হিসাবও হলফনামায় দিয়েছেন রত্না। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ৯০ লক্ষ ৭১ হাজার, ৪৩৯ টাকা।

রত্নার নামে জলপাইগুড়িতে সাত বিঘা জমি আছে, যা তিনি ২০১০ সালে কিনেছিলেন। এ ছাড়া, কলকাতার মহেশতলা ও বেহালা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর এবং দার্জিলিঙে তাঁর একাধিক জমি আছে। পর্ণশ্রী এবং নিউ টাউনে তাঁর বাড়ি রয়েছে। মোট স্থাবর সম্পত্তি ৮ কোটি ৩৬ লক্ষ ৩০ হাজার ১৭৩ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমানে তিনি ১৩ কোটি ২৭ লক্ষ ১ হাজার ৬১২ টাকার সম্পত্তির মালিক।

২০২১ সালে ভোটের আগে রত্নার হাতে নগদ ছিল ৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৩২ টাকা। তাঁর সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। ছিল দু’টি গাড়ি। ওই সময় তিনি ৩৬৪ গ্রাম গয়নার মালিক ছিলেন, যার আনুমানিক বাজারদর ১৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। রত্নার মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬২১ টাকা। স্থাবর সম্পত্তি ছিল ৯ কোটি ৭ লক্ষ ৭১ হাজার ১৭৪ টাকার। স্থাবর ও অস্থাবর মিলে রত্নার মোট সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ বছর আগে ছিল ১২ কোটি ৭০ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭৯৫ টাকা ছিল। অর্থাৎ, তাঁর ৫৬ লক্ষ ৪২ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পত্তি বেড়েছে। হলফনামায় রত্না জানিয়েছেন, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং ব্যাঙ্কের সুদ থেকে তাঁর আয় হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

১৯৮৯ সালে তিনি সরিষা রামকৃষ্ণ মিশন সারদা মন্দির বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৯১ সালে যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পাশ করেছেন রত্না।

Advertisement
আরও পড়ুন