বাজারচলতি প্রোটিন নয়, ঘরোয়া কী কী খাবার খেয়ে ডায়েট করেন আলিয়া? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
প্রোটিন খেয়ে ওজন কমানোর হিড়িক হালফিলের অভ্যাস। আগে তো বাড়ির তৈরি খাবার খেয়েই ভাল থাকতেন মানুষজন। ভাতের সঙ্গে ডাল-সব্জি, রুটি খেলেও তার সঙ্গে ডাল, তরকারি, আর মাছ অথবা মাংসের কোনও একটি আমিষ পদ পাতে থাকত। তা থেকেই আসত ভরপুর প্রোটিন, ভিটামিন ও ফাইবার। আলাদা করে ‘প্রোটিন ডায়েট’ করার প্রয়োজন হত না। বর্তমান সময়ে প্রোটিন নিয়ে এত মাতামাতি দেখে ক্লান্ত বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভট্ট। সম্প্রতি বোন শাহীন ভট্টের একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, সব খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে এমন ধারণা ভুল। অতিরিক্ত প্রোটিনে আসক্তি শরীরের ক্ষতিই করছে। তার চেয়ে ঘরোয়া খাবার থেকেই ভরপুর পুষ্টি হবে শরীরে।
শুধু মাছ, মাংস খেয়ে ওজন কমানোর যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা ইউরোপ-আমেরিকায় বহু আগেই শুরু হয়েছে। এখন এ দেশেও হচ্ছে। এই ধরনের ডায়েটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাই-প্রোটিন ডায়েট’ বা ‘প্রোটিন ডায়েট’। সে জন্য কী কী খেতে হবে সে সব পণ্যও চলে এসেছে বাজারে। তাদের গায়ে বড় বড় হরফে ‘প্রোটিন’ ট্যাগও লাগানো আছে। প্রোটিন শেক থেকে এনার্জি ড্রিঙ্ক, সর্বত্র প্রোটিন জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের ছড়াছড়ি। এমনকি প্রোটিন সমৃদ্ধ জলও পাওয়া যাচ্ছে এখন। আলিয়ার কথায়, ‘‘ছোটবেলায় প্রোটিন নিয়ে এত কথা শুনতে হয়নি। বাড়িতে যা রান্না হত তা খেয়েই সুস্থ ও নীরোগ থাকতাম। এখনকার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও প্রোটিন ডায়েট করার প্রয়োজন অনুভব করিনি। বরং ঘরোয়া হালকা খাবার খেয়েই ডায়েট করি আমি।’’
আলিয়ার ঘরোয়া ‘প্রোটিন ডায়েট’
শুধু স্যালাড বা চিয়া বীজের মতো খাবার খেয়ে ডায়েট করা আলিয়ার ধাতে নেই। ডাল-ভাত বা রুটি খেতেই পছন্দ করেন তিনি। সকালের জলখাবারে ওট্স, ঘরে তৈরি পোহা ও অঙ্কুরিত ছোলার স্যালাড খান। নানা রকম বাদামও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান। সকাল সকাল ৩০ গ্রাম প্রোটিন খেতেই হবে, এ ধরণায় বিশ্বাসী নন আলিয়া। ক্যালোরির হিসাবে নয়, বরং পরিমাণ মেপে খাওয়াই তাঁর ডায়েটের মূল মন্ত্র।
দুপুরে খুবই সাধারণ খাবার ডাল-ভাত ও প্রচুর সব্জি থাকে তাঁর পাতে। সঙ্গে দইয়ের রায়তা। চিকেন বা মাছ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান।
বিকেলে ভাজাভুজির বদলে বাদাম ও নানা রকম ফল খান। পিনাট বাটার দিয়ে তৈরি হালকা স্ন্যাক্সও খান মাঝেমধ্যে।
রাতে গ্রিলড চিকেন, সব্জির স্যুপ বা চাল-ডাল মিশিয়ে খিচুড়িই পছন্দ আলিয়ার। আলাদা করে বাজারচলতি প্রোটিন শেক খান না, বরং ঘরে তৈরি ডাল, ডিম ও পনির থেকেই ভরপুর প্রোটিন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
সব খাবারে প্রোটিন কেন জরুরি নয়?
প্রোটিন তৈরি হয় বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে৷ মোট ২২টি থাকে তাতে, তার মধ্যে ৯টির বিরাট গুরুত্ব, কারণ শরীরে তারা তৈরি হয় না, গ্রহণ করতে হয় খাবারের মাধ্যমে৷ এদের বলে এসেনসিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড৷ তা ছাড়া, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে পিওয়াইওয়াই ও জিএলপি–১ নামে দুটি হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে৷ তাদের প্রভাবে পেট অনেক ক্ষণ ভরা থাকে৷ বারে বারে খিদে পায় না। তাই প্রোটিন খাওয়ার এত চল বেড়েছে। কিন্তু প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম বা বাজারচলতি নানা শেক, সাপ্লিমেন্ট বেশি খেয়ে যদি ভাত-রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়া হয়, তা হলে শরীরে শক্তিই তৈরি হবে না। শরীরের কাজ হল কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পুড়িয়েই শক্তি বা ‘এনার্জি’ তৈরি করা। এই শক্তিই আসলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে সচল ও সক্রিয় রাখে। যখন সঞ্চিত কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ফুরিয়ে যাবে, তখন শরীর শূন্য কার্ব বা নো কার্ব দশায় চলে যাবে। এই অবস্থায় ওজন কমে গেলেও, শরীরকে চালানোর মতো শক্তি থাকবে না। তখন আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে, অথবা কিডনি ফেলিয়োর হবে। দেখা দেবে হরমোনের গোলমালও। মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে, ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যাবে, সন্তানধারণেও সমস্যা আসতে পারে।