Tulsi Plant Rules

বাড়িতে রাখা তুলসীগাছে মঙ্গলকামনা করতে গিয়ে অজান্তে অশুভ ছায়া ডেকে আনছেন না তো? কী কী ভুল এড়িয়ে চলবেন?

বলা হয়, যে বাড়িতে একটি সতেজ তুলসীগাছ থাকে, সেখানে অমঙ্গলের ছায়া প্রবেশ করতে পারে না। সনাতন মতে, তুলসীগাছে প্রতি দিন দু’বেলা প্রদীপ এবং ধূপকাঠি জ্বালালে এবং জল দিলে খুব ভাল ফলপ্রাপ্তি হয়।

Advertisement
বাক্‌সিদ্ধা গার্গী
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১০:৩৫

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, তুলসীগাছের সঙ্গে ভগবান বিষ্ণু এবং ধনসম্পদের দেবী লক্ষ্মীর সংযোগ রয়েছে। পবিত্র এই গাছকে মা লক্ষ্মীর প্রতিরূপ হিসাবে কল্পনা করা হয়। মনে করা হয়, যে বাড়িতে একটি সতেজ তুলসীগাছ থাকে, সেখানে কোনও অমঙ্গলের ছায়া প্রবেশ করতে পারে না। সনাতন মতে, তুলসীগাছে প্রতি দিন দু’বেলা প্রদীপ এবং ধূপকাঠি জ্বালালে এবং জল দিলে খুব ভাল ফলপ্রাপ্তি হয়। জীবন থেকে দূর হয় সকল প্রকার অশুভ শক্তি। সংসার সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠে। পরিবারের মঙ্গলকামনার জন্য অনেকেই বাড়িতে তুলসীগাছ রাখেন। কিন্তু সেই গাছ রাখার সঠিক নিয়ম পালন না করলে হিতে বিপরীত হয়। বাস্তুমতে তুলসীগাছ রাখার সঠিক নিয়মগুলি নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—

Advertisement
  • তুলসীগাছ রাখার জন্য সবচেয়ে শুভ দিক হল উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিক। তা ছাড়া পূর্ব দিকেও তুলসীগাছ রাখা যেতে পারে। এই দিকগুলিকে ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্র মনে করা হয়।
  • ভুল করেও তুলসীগাছ বাড়ির দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রাখবেন না। বাস্তুমতে, দক্ষিণ দিকে তুলসীগাছ রাখলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
  • তুলসীগাছকে সব সময় মাটি থেকে কিছুটা উঁচু স্থানে রাখা উচিত। মাটিতে সরাসরি টব না রেখে একটি বেদীর উপর বা উঁচু স্ট্যান্ডে টবটি বসিয়ে রাখুন।
  • তুলসীগাছের চারপাশ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তুলসীতলার কাছাকাছি ময়লা ফেলার পাত্র, জুতোর তাক বা ঝাড়ু রাখবেন না।
  • ক্যাকটাসের মতো কোনও কাঁটাযুক্ত গাছ তুলসীগাছের আশপাশে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। তবে তুলসীগাছের পাশে কলাগাছ লাগানো খুব শুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে বিষ্ণু এবং লক্ষ্মীদেবীর কৃপা পাওয়া যায়।
  • প্রতি দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার কাপড়ে তুলসীগাছে জল দেওয়া উচিত। তবে সূর্যাস্তের পর তুলসীগাছে জল দেওয়া অশুভ বলে গণ্য করা হয়।
  • জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, রবিবার, একাদশী এবং সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের দিন তুলসীগাছে জল দেওয়া এবং পাতা তোলা অশুভ বলে মনে করা হয়।
  • বাড়িতে শুকনো তুলসীগাছ রাখা অমঙ্গলজনক। যদি কোনও কারণে গাছটি শুকিয়ে যায়, তবে তা কোনও জলাশয়ে বিসর্জন দিয়ে সেখানে দ্রুত একটি নতুন সতেজ তুলসীগাছ লাগাতে হবে।
  • প্রতি দিন সন্ধ্যায় তুলসীতলায় ঘি বা সর্ষে তেলের প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। এটি ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং পরিবারে সমৃদ্ধি আনে।
  • সূর্যাস্তের পর তুলসীগাছ স্পর্শ করা বা পাতা ছেঁড়া একেবারেই উচিত নয়। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে তুলসি দেবী বিশ্রাম নেন। তাই গাছের পাতা স্পর্শ করলে তিনি অসন্তুষ্ট হন।
  • প্রয়োজন না থাকলে তুলসীগাছের পাতা ছেঁড়া উচিত নয়। বিশেষ করে নখ দিয়ে পাতা কাটবেন না। আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে পাতা তুলবেন।
  • রাধাকৃষ্ণ, বিষ্ণু বা গোপালের পুজোয় তুলসীপাতা অপরিহার্য হলেও, গণেশ এবং শিবপুজোয় তুলসীপাতা ব্যবহার করা অশুভ বলে মনে করা হয়।
Advertisement
আরও পড়ুন