Hanuman Jayanti 2026 Nirghanta

শ্রীরামের পর এ বার তাঁর একনিষ্ঠ সেবকের পালা! কবে পড়েছে হনুমান জয়ন্তী? পুজো করার নিয়মগুলি কী?

বজরংবলীর আর এক নাম সঙ্কটমোচন। ভক্তিভরে তাঁর উপাসনা করলে নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস এবং সাহস বৃদ্ধি পায়।

Advertisement
বাক্‌সিদ্ধা গার্গী
শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৪
hanuman

ছবি: (এ আই সহায়তায় প্রণীত)।

রামনবমীর পর চলে এল তাঁর প্রিয় ভক্ত বজরংবলীকে উদ্‌যাপনের তিথি। চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হন হনুমান জয়ন্তী। বজররংবলী ছিলেন শ্রীরামচন্দ্রের একনিষ্ঠ সেবক। ভগবান রামচন্দ্রের প্রতি হনুমানজির প্রবল ভক্তির নানা গল্প রামায়ণে পাওয়া যায়। বজরংবলীর আর এক নাম সঙ্কটমোচন। ভক্তিভরে তাঁর উপাসনা করলে নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এরই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস এবং সাহস বৃদ্ধি পায়। হনুমান জয়ন্তীতে বজরংবলীর পুজোয় সুফল প্রাপ্তি হয়। তিথি এবং পুজোর নিয়মকানুন জেনে নিন।

Advertisement

হনুমান জয়ন্তীর তিথি:

তিথি আরম্ভ-

ইংরেজি: ১ এপ্রিল, ২০২৬।

বাংলা: ১৭ চৈত্র, ১৪৩২।

সময়: সকাল ৭টা ৭ মিনিট।

তিথি শেষ-

ইংরেজি: ২ এপ্রিল, ২০২৬।

বাংলা: ১৮ চৈত্র, ১৪৩২।

সময়: সকাল ৭টা ৪২ মিনিট।

হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু ২ এপ্রিল ভোরে তিথি থাকছে, তাই এই দিনটি হনুমান জয়ন্তী হিসাবে পালন করা হবে।

হনুমান জয়ন্তীতে বজরংবলীকে পুজো করার নিয়ম:

  • এই দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে নদীতে স্নান করতে পারলে খুব ভাল হয়। সেটি সম্ভব না হলে বাড়িতেই স্নান করে লাল, কমলা বা হলুদ রঙের শুদ্ধ বস্ত্র পরে নিন।
  • বাড়িতে হনুমানজীর মূর্তি থাকলে সেটিকে ঘি, মধু, দুধ, দই এবং গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করুন। তার পর জল দিয়ে মূর্তিটি ধুয়ে দিন। যে কোনও দেবতার মূর্তি জল ব্যতীত অন্যান্য জিনিস দিয়ে অভিষেক করা হলে পরে সেটিকে আবার জল দিয়ে ধুয়ে রাখা আবশ্যিক।
  • এর পর হনুমানজীর সারা গায়ে কমলা রঙের সিঁদুর মাখিয়ে দিন। সিঁদুরে চামেলির তেল মিশিয়ে মাখাতে পারলে খুব ভাল হয়। লাল জবার মালা, লাল এবং কমলা রঙের ফুল ও তুলসীপাতা নিবেদন করুন। একটি পানপাতায় সিঁদুর দিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ লিখে নিবেদন করতে পারলেও খুব ভাল হয়।
  • নৈবেদ্য হিসাবে গুড়, ছোলা, মুগের লাড্ডু বা কমলা রঙের লাড্ডু, কলা দিতেই হবে। এরই সঙ্গে পছন্দমতো ফল, মিষ্টি প্রভৃতি দিতে পারেন। নিজের হাতে হালুয়া তৈরি করেও দেওয়া যেতে পারে।
  • নৈবেদ্য দানের পর ধূপকাঠি এবং একটি মাটির প্রদীপে ঘি এবং লবঙ্গ দিয়ে জ্বালিয়ে হনুমানজীর আরতি করুন। আরতি শেষে তাঁর কাছে নিজের করা সমস্ত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং মনস্কামনা জানান। সব শেষে তিন বার হনুমান চালিসা পাঠ করুন।
  • যাঁরা মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন বলে ভাবছেন, তাঁরা হনুমানজীর কাছে অর্পণের জন্য তুলসীপাতা, লাল ফুলের মালা, কলা এবং কমলা রঙের মিষ্টি অবশ্যই নিয়ে যান। এরই সঙ্গে পছন্দমতো অন্যান্য নৈবেদ্য সামগ্রীও নিয়ে যেতে পারেন। মন্দিরে হনুমানজীর সামনে বসে তিন বার হনুমান চালিসা পাঠ করুন এবং চামেলির তেল বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।
Advertisement
আরও পড়ুন