ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
কথায় বলে, খুশি সব সময় ভাগ করে নিতে হয়। তা হলে আনন্দ দ্বিগুণ হয়। কিন্তু শাস্ত্র বলে, খুশি ভাগ করে নিলে কিছু ক্ষেত্রে বিপদের মুখে পড়তে হয়। কারণ কার মনে কী চলে তা আমরা জানি না। ফলত নজরদোষের কবলে পড়তে হয়। আমাদের আশপাশে এমন নানা মানুষই রয়েছেন যাঁদের অপরের খুশি সহ্য হয় না। এঁরা সর্বদা অপরের খারাপেই নিজের খুশি খুঁজে পান। এ ছাড়া কিছু জিনিস রয়েছে যা কখনও অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে নেই। কাছের বন্ধুকেও সে সকল কথা বলা নিষিদ্ধ। অন্যথায় কাজ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
কোন কথাগুলি অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া নিষেধ?
জীবনের লক্ষ্য: প্রায় প্রতিটি মানুষই জীবনে একটা লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। একটা সময় পর গিয়ে তাঁরা সেই উদ্দেশ্য পূরণের প্রস্তুতি নেন। তবে আপনার উদ্দেশ্য কী তা নিজের মনের গহীনে লুকিয়ে রাখুন। সেই কথা সকলের কাছে বলে বেড়াবেন না। এতে উদ্দেশ্য পূরণের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে থাকে। যে আপনাকে সেই কাজে সাহায্য করতে পারবেন তাঁকে ছাড়া বাকিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও কথা বলা উচিত নয় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র। এমনকি মনের মতো চাকরির ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া বা ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনও ভাল সুযোগের হাতছানির খবরও অপরকে বলা যাবে না, যত ক্ষণ না তা পাকাপাকি ভাবে হয়ে যাচ্ছে।
আয়: আপনি মাসে কত আয় করেন সেটাও কখনও কারও কাছে খোলসা করে জানানো উচিত নয়। এমনকি মা-বাবাকেও না। আপনার আয় একান্তই আপনার পরিশ্রমের ফল। দরকারে কাছের মানুষদের কিছু টাকা কমিয়ে বলুন। তবে আসল অঙ্ক বলা নিষেধ। এতে আয়ের ক্ষেত্রে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। মনের মতো আয় বৃদ্ধি পায় না।
সম্পর্কের সমস্যা: প্রতিটি সম্পর্কেই সময়বিশেষে নানা সমস্যা দেখা দেয়। কোনও সম্পর্কই একই ছন্দে এগিয়ে চলে না। এ ক্ষেত্রে আমরা যে ভুলটা করে ফেলি সেটা হল সেই সমস্যার কথা অপরকে বলা। শাস্ত্র জানাচ্ছে এই কাজটি করাও মোটেই উচিত নয়। এতে ঝামেলা কমার বদলে বৃদ্ধি পায়। নিজেদের সম্পর্কের সমস্যা নিজেদেরই মেটানো উচিত। তা নিয়ে অপরের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
পারিবারিক সমস্যা: সব পরিবারেই নানাবিধ সমস্যা লেগে থাকে। কিন্তু সে সব নিয়ে অন্যের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। এর ফলে ঝামেলা আরও বৃদ্ধি পায়। পারিবারিক সমস্যা পরিবারের বাইরে অন্য কেউ যেন জানতে না পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
দানধ্যান: শুদ্ধ মনে কোনও কিছু দান করার থেকে বড় বিষয় আর কিছু হয় না। তবে যখনই আপনি সেই কাজের কথা অপরকে বলতে যান, তখনই সেটি করে অর্জন করা পুণ্য লোপ পায়। কোনও কিছু দান করে বা ভাল কাজ করে অপরের সঙ্গে সেটি নিয়ে আলোচনা করতে নেই। এতে পুণ্য অর্জনের বদলে আমরা পাপ করে বসি। কাউকে সাহায্য করে সেটির বড়াই করাও ঠিক বিষয় নয়।
খারাপ গুণ: সব মানুষের মধ্যে যেমন নানা ভাল গুণ থাকে, তেমনই থাকে কিছু খারাপ গুণ। নিজের মধ্যে থাকা খারাপ গুণগুলি সম্বন্ধেও অন্যের সঙ্গে খোলাখুলি ভাবে আলোচনা করা উচিত নয়। মনের গহীনে থাকা ভয় সম্বন্ধেও অপরকে বলা মানা। এর প্রভাবে সে সকল বিষয় আমাদের মধ্যে আরও জাঁকিয়ে বসে। ছড়ি নাড়ে রাহু-কেতু।